ঈদযাত্রায় মৃত্যুর মিছিল

সড়কগুলোকে নিরাপদ করুন

এফএনএস
| আপডেট: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম | প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
সড়কগুলোকে নিরাপদ করুন

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। এবারের ঈদযাত্রাও তার ব্যতিক্রম নয়। মাত্র ১২ দিনে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। তবুও এত অল্প সময়ে এত প্রাণহানি আমাদেরকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগের ও পরের ১০-১২ দিনে সড়কগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়াহুড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং চালকদের অদক্ষতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ঈদযাত্রায় ৩৭২টি দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন প্রাণ হারান, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত চার বছরে আটটি ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩,০৬৭ জন নিহত এবং প্রায় সাত হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা মনে করি, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতা আনতে হবে। মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে- অতিরিক্ত ভিড় বা ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া পরিবহন খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য চালক বা অচল যানবাহন সড়কে নামানো হয়। এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সরকারকে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ঈদযাত্রা আনন্দের উৎসব হলেও তা যেন মৃত্যুর মিছিল না হয়। প্রতিটি প্রাণ অমূল্য, প্রতিটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে শোকের সাগরে ডুবিয়ে দেয়। তাই এখনই সময় সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার। দৃশ্যমান পদক্ষেপ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা যদি সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে পারি, তবে উৎসবের আনন্দ সত্যিকার অর্থে পূর্ণতা পাবে।