ঢাকার পানি সংকট

ভূগর্ভস্থ নির্ভরতা কমাতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
ভূগর্ভস্থ নির্ভরতা কমাতে হবে

রাজধানী ঢাকার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বর্তমানে প্রায় ৬৫ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এ কারণে ঢাকার পানির স্তর প্রায় সাত ফুট নিচে নেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন যে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন রাজধানীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট ডেকে আনবে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা ওয়াসা এক দশক আগে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের জন্য দুটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যেই ওয়াসা নতুন করে ভূগর্ভ থেকে দৈনিক আরও ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯২০ কোটি টাকা। এই পরিকল্পনা ঢাকার পানি সংকট কমাবে না, বরং ভবিষ্যতে আরও বাড়িয়ে তুলবে। বাস্তবতা হলো, মেঘনা নদী থেকে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের চলমান প্রকল্পগুলো বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয়ও বেড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও অদক্ষতা এ সংকটের মূল কারণ। নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে ওয়াসার উচিত পুরনো প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা। অন্যথায় রাজধানীবাসী দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। আমরা মনে করি, ঢাকার পানি ব্যবস্থাপনায় কিছু মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। প্রথমত, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, বিশেষত শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে। তৃতীয়ত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জলাধার পুনরুদ্ধারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পানি সংকট কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি নীতিগত ব্যর্থতা। দীর্ঘসূত্রিতা, ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণনির্ভরতা এবং বিদেশী অর্থছাড়ের অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। একনেকের উচিত হবে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে গভীর পর্যালোচনা করা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে