আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বা তার নিয়োজিত কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে প্রসিকিউশনের কাছে কোনো চিঠি পৌঁছায়নি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বিচার চলাকালীন পলাতক থাকলে আইনজীবী নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। লন্ডনভিত্তিক আইনি সংস্থা কিংসলি ন্যাপলি এলএলপির মাধ্যমে ই-মেইলে চিঠি পাঠানো আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে ল ফার্মের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানো আইনে সম্ভব নয়। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা।”
এর আগে, ৩০ মার্চ শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, তার অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করার অনুরোধ করা হয় এবং ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ রাখা হয়। তবে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেছেন, এই চিঠি প্রসিকিউশনের কাছে কখনো পৌঁছায়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় ১৩ জন নিহত হওয়ার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে তার মামলায় পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। অনুপস্থিত থেকে কোনো ল ফার্মের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ও আদালতকে অবমাননা করার সমতুল্য।”
বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনকালে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচার চলাকালীন তিনি অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রাখে।