জাটকা রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় ৩২ জেলেকে আটক করেছে টাস্কফোর্স। ২ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং এর মধ্যে ২৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে, ৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ এবং নৌ পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। মামলার আসামী জেলেরা হলেন-আব্দুর রহমান খান (২৮), বাবুল মাঝি (২২), মো. জাকির হোসেন (২৭), মনু মিয়া গাজী (২৮), মো. আমন (১৮), জিল্লু মাঝি (৩০), আওলাদ বন্দুকসী (২৮), ফরিদ বন্দুকসী (৩০), ইব্রাহীম খান (৩০), হাবিব খান (৪০), জাহিদুল ইসলাম (২৭), মো. মোশাররফ মাঝি (২৪), মো. ইউসুফ মাঝি (২৩), হারুন খান (৫০), শাহজাহান শেখ (৪৫), রুস্তম হাওলাদার (৩২), আব্দুল কাদির ঢালি (৬০), বাসু ঢালী (৩০), দুলাল দিদার (৫৫), শাকিল হাওলাদার (১৯), শিপন সিকদার (২৯), তানভীর হাওলাদার (১৮), মানিক জমাদ্দার (২৭), আকাশ খান (২৪), ইমান গাজী (৩০), রুবেল ছৈয়াল (২০), মো. ছাত্তার গাজী (৩২), সাগর হাওলাদার (১৯)। এদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সদর উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে জানানো হয়, বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আখনের হাট থেকে বহরিয়া পর্যন্ত মেঘনা নদীর উপকূলীয় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে টাস্কফোর্স। এ সময় জাটকা ধরা অবস্থায় হাতেনাতে ৩২ জেলে আটক, দুটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ, ৫হাজার মিটার কারেন্টজাল ও আনুমানিক ২০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, অভিযানে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে নৌ থানায় মৎস্য আইনে পৃথক ১০টি নিয়মিত মামলা হয়েছে। জব্দ কারেন্টজাল ও নৌকা থানা হেফাজতে রয়েছে। জাটকাগুলো গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর নৌ থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ: সরকার জাটকা সংরক্ষণের জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এবার জাটকা রক্ষা কর্মসূচি শুরু থেকেই চাঁদপুর মেঘনার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জাটকা নিধন করা হয়। জেলে নামধারী দুষ্কৃতিকারীদের আহরিত জাটকা, ইলিশ সহ নদীর অন্যান্য মাছ শহরে এবং গ্রামেগঞ্জে প্রকাশ্যেই ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। অনেকে প্লাস্টিকের ড্রামে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচারও করেছে। অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশের সাথে ভেজাল ভেঙ্গে নদীতে জাটকা সহ মাছ ধরার সুযোগ পায় জাটকা নিধনকারী জেলেরা।