চাঁদপুরে পরীক্ষা চলাকালীন ফ্যান ছিঁড়ে পড়লো ছাত্রীর মাথায়

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) :
| আপডেট: ২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম | প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
চাঁদপুরে পরীক্ষা চলাকালীন ফ্যান ছিঁড়ে পড়লো ছাত্রীর মাথায়

চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মডেল টেষ্ট পরীক্ষা চলাকালীন সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে এশা সূত্রধর (১৬) নামে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। এতে পুরো বিদ্যালয়ে হৈ চৈ-এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১ এপ্রিল বুধবার বিকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীন কবির। জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিসরূপ এশা সূত্রধর বাংলা ২য় পত্রের মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ের ৩০৬ নম্বর কক্ষে বসেন। সেখানে এশাসহ মোট ৪২ জন নারী শিক্ষার্থী সকাল ১০টা হতে পরীক্ষা দিচ্ছিলো। আর এর পরই হঠাৎ সিলিং ফ্যান খুলে এশার মাথায় পড়ে। এতে এশার রক্তক্ষরণ হয় এবং তাকে ক্ষতস্থানে ২টি সেলাই দিতে হয়। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত এশা সূত্রধর চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখা মোড় এলাকার খোকন সূত্রধরের মেয়ে। ঘটনার পরপরই শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাজল জানান, সিলিং ফ্যানটি সরাসরি ছাত্রীর মাথায় পড়ায় তার কপালে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তার ক্ষতস্থানে দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত শিক্ষার্থী এশা বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথার ওপর থেকে সচল ফ্যানটি ছিঁড়ে পড়ে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও আমি মাথায় দারুনভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই। এখন আমার অনেক ভয় করছে। এশার পিতা খোকনের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিদ্রুত বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের ফ্যান ও বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীন কবির বলেন, ঘটনার পর পরই ওই কক্ষের ফ্যানসহ পুরো বিদ্যালয়ের সিলিং ফ্যান পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে উদ্যোগ নিয়েছি। আহত শিক্ষার্থী এশার চিকিৎসার ব্যবস্থা শেষে তাকে বাসায় পৌছে দেয়া হয়েছে এবং সে সুস্থ্য রয়েছে। আমাদের ভবন ও কক্ষ সংকটের কারনে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে