সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাবকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম এবং নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৯ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাছিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা বিতর্কের পর এই আদেশের মধ্য দিয়ে আব্দুল ওয়াহাবের ‘একচ্ছত্র আধিপত্যের’ অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আব্দুল ওয়াহাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি যেসব সত্যতা পেয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন। কলেজ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও হিসাবের গরমিল। একাধিক নারীঘটিত বিতর্কিত ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি। তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, কালিগঞ্জের পীরগাজন গ্রামের মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে আব্দুল ওয়াহাবের দাপটে কলেজে এক ধরণের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তাঁর অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এমনকি নিজ এলাকা রতনপুর ইউনিয়নের সাতালিয়ায় প্রবাসী জামাতার মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষের বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। অনেক জায়গায় মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা গেছে বলে জানায় সূত্রটি। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের যদি চারিত্রিক ও নৈতিক স্খলন ঘটে, তবে শিক্ষার্থীরা সেখানে নিরাপদ নয়। এই সিদ্ধান্ত আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।" বরখাস্তের আদেশের পর কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজ কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এখন থেকে আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে কলেজের কোনো ধরণের প্রশাসনিক বা একাডেমিক সম্পর্ক থাকবে না। তাঁর কলেজে প্রবেশ বা কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ‘পঞ্চ পাণ্ডব’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াহাবের এই পতন অন্যান্য দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য একটি কড়া বার্তা।