নীলফামারীর সৈয়দপুরে ডাব ও আনারসের দাম বেড়েছে তিনগুন। দেশের চলমান পরিস্থিতির অজুহাত দিয়ে কতিপয় ব্যবসায়ি দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিগুন থেকে তিনগুন পর্যন্ত। এখানে কথা বলার কোন সুযোগ নেই। দাম নিয়ে একটু প্রশ্ন তুললে ব্যবসায়ি কর্তৃক ক্রেতাদের হতে হয় অপমানিত,লাঞ্ছিত। কয়েক মাস পূর্বে সৈয়দপুর বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে আনারস বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ৪০ টাকা করে। হঠাৎ করে বাজারে একটি আনারস ৪০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি করা হচ্ছে ১শ টাকা থেকে ১শ ২০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে আনারস কিনতে আসা জসিম উদ্দিন নামে একজন জানান, আমি কয়েক মাস পূর্বে একটি আনারস কিনেছি ৪০ টাকায়। আর আজ একই সাইজের আনারস কিনতে হল কেজিন ৮০ টাকা। দাম বেশির কারণ জানতে চাইলে অজুহাত দেয় দেশের চলমান পরিস্থিতির কথা। এদিকে কয়েক দিন থেকে পড়ছে একটু গরম। গরমের কারণে অনেকেই ডাবের পানি পান করে থাকেন। সেই ডাবের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক। ডাব কিনতে আসা রাকিব জানান, আমি কয়েকদিন পূর্বে একটি মাঝারি ডাব কিনেছি ৭০ টাকা। আজ একই দোকানে এসে একটি ডাব চাচ্ছে ১শ ২০ টাকা। শেষ মেষ কিনতে হল ১১০ টাকা দরে। সৈয়দপুর পাঁচ মাথা মোড়ে ডাব কিনতে আসা মোঃ সুমন জানান, যে ডাব ছিল ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। আজ সেই ডাব কিনতে হচ্ছে ১শ ২০ টাকা। দাম বেশির কারণে ডাব না নিয়ে ফিরে আসি। সাংবাদিক আঞ্জেলো মন্ডল বলেন, শরীরটা ভাল নেই, চিকিৎসক ডাব ও আনারস খেতে বলেছেন।তাই আমি কয়েকদিন আগে সৈয়দপুর বাজারে যাই আনারস ও ভাব কিনতে। দোকানদার একটি আনারসের দাম চাইল ১শ ২০ টাকা। ওই ছোট আকারের আনারসটির দাম ছিল কয়েক মাস পূর্বে মাত্র ৪০ টাকা। ৬০ টাকা দাম বলার পরও দোকানদার বিক্রি করলো না। শেষে আনারস ও ডাব না নিয়ে ফিরে আসি বাসায়। আমার ধারণা দোকানদাররা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছে মত দাম নিচ্ছে। আনারস কিনতে আসা আশরাফুল আলম বলেন, এক শ্রেণির টাউট এবং অসৎ দোকানদার পণ্যের দাম নিজের ইচ্ছে মত নিচ্ছেন। এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, শরীর ভাল রাখতে মাঝে মধ্যে ডাব ও আনারস খেতে হয়। কিন্তু বাজারে এ দুটি পণ্যের দাম অনেক বেশি। দামের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে অপারগ দোকানদাররা। এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশের এ সময়ে যে সকল ব্যবসায়ি দাম বাড়িয়ে জনগনকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায় তারা আসলে সৎ ব্যবসায়ি না। ওই সকল অসৎ ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার।