বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর খ্রিস্টান পাড়ার মুখ থেকে কাটাখালি খাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জিয়ানগর খালপাড়ের এই অংশ স্বাভাবিক জোয়ারেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়ে হাঁটু পানি ডিঙিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষার আগেই সড়কটি নির্মাণ না হলে এবারের দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংলগ্ন রূপাতলী খাল ২০২৪ সালে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে এই কাজে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে দুই সংস্থার মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন মন্ত্রীর প্রভাবেই সমন্বয় ছাড়াই খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে খননকাজ চলাকালীন সড়কের বড় একটি অংশ খালের মধ্যে ধসে পড়ে। পরবর্তীতে খালের পাড়ের মাটি ভেঙে পড়তে থাকায় সড়কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সাহে আলম জানান, বিষয়টি একাধিকবার সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি সাবেক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাসারের কাছেও আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি মেলেনি। সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, খ্রিস্টান পাড়া থেকে কাটাখালি খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি উন্নয়ন কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখনো দরপত্র আহবান না হওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিলম্বের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, “সড়কটি নির্মাণ প্রকল্প তালিকাভুক্ত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে। এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।