চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে একসময় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম আর খ্যাতি ছিল এলাকায়। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জৌলুশ আর সুনাম হারিয়ে এখন শিক্ষার্থী সংকটে ধুঁকছে। এ বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই নগন্য। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে। তবে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিলেও জমজমাট কিন্ডার গার্টেন গুলো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শিক্ষার্থীরা পড়ছেন কিন্ডার গার্টেন স্কুলে। বাড়তি যত্নের কারণে অভিভাবকরা বেসরকারি কিন্ডার গার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন। সরকারি বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী বাড়াতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হলেও কোনো সুফল পাচ্ছে না।স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, বর্তমানে ঝিনাইদহ হরিনাকুন্ডু উপজেলার চরপাড়া সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিক্ষকদের অনেকেই দায়িত্বে গাফিলতি করছেন। শিক্ষকদের অদক্ষতা আর পাঠদানে আগ্রহটা কম থাকায় বিদ্যালয়টির এমন দশা। ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে চান না। এদিকে ১ এপ্রিল তৃতীয় শ্রেনির একজন শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে দেখা গেছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনি ছিল কক্ষ শূন্য। কিন্তু কৌশলবাজ শিক্ষকরা হাজিরা ১২ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখিয়েছেন।আবার ৩ জন শিক্ষকের কর্মস্থলে প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন।তিনজন শিক্ষকের মধ্যে রুপালি নামের একজন সহকারী শিক্ষককে পার্শ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌখিক ভাবে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়েটি প্রতিষ্ঠিত হয়।বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুন্দর ভাবে পরিচালিত হচ্ছি সে কারনে ২০১৩ সাল থেকে সরকারি বেতন পান শিক্ষকরা।
হরিনাকুন্ডু চরপাড়া স্কুলের খেলার মাঠটি গুরু ছাগল ক্ষেত হয়ে থাকে সে কারনে স্কুলের শ্রেনি কক্ষে আসা যাওয়ার রাস্তা নেই। স্কুলটিতে শিক্ষার্থী না থাকায় নেই কোনো কোলাহল, স্কুলজুড়ে থাকে নীরবতা ও স্কুল খোলা থাকলে ও মনে হয়না বিদ্যালয়টিতে পাঠদান চলছে।এ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের কর্মরত পদ থাকলে ও রয়েছেন মাত্র ৩ জন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রথম দ্বিতীয় শ্রেনির শির্ক্ষীদের পাঠদান এবং ও বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনির পাঠদান দেওয়ার নিয়ম রয়েছে সরকারি ভাবে।কিন্তু এ স্কুলে শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছামত মতো আসা যাওয়া করেন। এলাকাবাসী বলছেন,বিদ্যালয়ে পরিচালনা পরিষদের কমিটি গঠন নিয়ে কলহ সৃষ্টি হলে অনেক অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করেে দিয়েছেন।কর্মরত শিক্ষকরা মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলটির বিষয়ে অবগত। এখানে শিক্ষকদের কিছুই করার নেই। যে শিক্ষকদের এখানে পাঠানো হয়, তারা দ্রুত স্কুল ছাড়তে তদবির করেন। শিক্ষার্থী কমতে কমতে শূন্যের কোটায় নেমেছে। ছাত্র-ছাত্রী নেই শিক্ষকের রয়েছে সংকট। অনেক স্কুলে পদের চেয়ে বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছে। দুই শিফটে বিদ্যালয়টি চালু রাখার নিয়ম রয়েছে কিন্তু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক না থাকায়। দুপুর ২ টার মধ্যে বিদ্যালয়টির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ মনে করেন শিক্ষার পরিবেশ, মানহীনতা, পুরোনো পদ্ধতি আঁকড়ে থাকায় অভিভাবকরা সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। সরকারি চাকরি হওয়া শিক্ষকরা মাস গেলেই বেতন তুলছেন। কোনো জবাবদিহিতা নেই।প্রথম শ্রেনি থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে।
চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল হক বলেন,আমাদের স্কুলের কাছাকাছি ১টি এবং ১ কিলোমিটারের মধ্যে আরও ২টি বিদ্যালয়ে থাকায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। অনেক চেষ্টা করে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারছি না। কিছু শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ও উপজেলা সদরের কিন্ডার গার্টেনে লেখাপড়া করছে। এ কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দিয়েছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)মিজানুর রহমান বলেন,স্কুলটি অপ্রতুল শিক্ষার্থী থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)আমজাদ হোসেন চরপাড়া স্কুলটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা একদমই কম। শিক্ষার্থী কম থাকায় নিকটবর্তী স্কুলের সঙ্গে একীভূত করতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।