বাগেরহাটের চিতলমারীতে তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে দুই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগে বেতন-ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সাবেক পরানপুর শহীদ শেখ আবু নাসের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুষেন কুমার ঢালী এবং সহকারী শিক্ষক সুমনা সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়টির নাম এখন “পরানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নাম করন করা হলেও দুর্নীতির আখড়া নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুষেন কুমার ঢালী ও সুমনা সরকার নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সময় উপজেলা মধ্যমিক শিক্ষক সমিতির প্রভাবশালী সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জোনাবালী ফকির মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (বর্তমান পলাতক) অবনী মোহন বসু ও চিতলমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মফিজুর রহমানকে বিপুল পরিমান অর্থ প্রদান করে সরকারী এমপিও ইনডেক্স ভুক্ত হন, সহকারী শিক্ষক সুষেন কুমার ঢালী এবং সহকারী শিক্ষক সুমনা সরকার ।
জানাগেছে, ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় পাশ্ববর্তী উপজেলা ফকিরহাটের মূলঘর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর অফিস কক্ষে। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সেখানে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষায় সুষেন কুমার ঢালী ও সুমনা সরকারের উপস্থিতি ছিলনা। সে কারনে কার্যকারি কমিটির সভাপতি, সদস্যদের নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন বহিতে সুষেন কুমার ঢালী ও সুমনা সরকারে নাম বা অংশ গ্রহন দেখা জায়না।
অত:পর এনটি আর সিএ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগ পরীক্ষা ব্যতিত দুই শিক্ষকের চাকুরী হওয়া এবং সরকারী বেতন ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিএনপি নেতৃত্বাধিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টির কামনা করেছেন চিতলমারী উপজেলাবাসী।
বেতন ভাতা উত্তোলন সিট এর সূত্রমতে দেখা গেছে,সুষেন কুমার ঢালী, সহকারী শিক্ষক এমপিও ইনডেক্স নং-৫৬৮২৪১১৩ এবং সুমনা সরকার সহকারী শিক্ষক, এমপিও ইনডেক্স নং- ৫৬৮৩৩৭১০। বিদ্যালয়ের এমপিও কোড নং-১৩৮৪৩২১২ ইন ১৩৮৪৩২। সুষেন কুমার ঢালী ২০২২ সালে উপজেলার জোনাবালী ফকির মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সংস্থাপন কর্মচারী হিসেবে এপ্রিল ২০২২ এর জনু মাসে ২৭,৫০০ টাকা এবং সুমনা সরকার সংস্থাপন কর্মচারী হিসেবে চর বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন ৮২,৪০০ টাকা। (যার বিল নং- ৪/২১-২২)। আবার একই ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সুষেন কুমার ঢালী পরানপুর শহীদ শেখ আবু নাসের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন ১৫,৯০০টাকা এবং সুমনা সরকার মে-২০২২ এ বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন ১২,৭৫০টাকা। প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বেতন ভাতা চলমান রয়েছে। এ ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: আল মুরাদ বলেন, আমি সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। এসব ঘটনা আগের কর্মকর্তার বিষয়, তবে ইহা সত্যহলে এবং সরকারি নির্দেশনা পেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, টাকার বিনিময় এই ভূঁয়া নিয়োগের বিষয়টি আমরা জেনেও সে সময় প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি অনেকের কারন তখনকার এমপি শেখ হেলাল উদ্দীনের বাবার নামের প্রতিষ্ঠান বলে কথা। তৎকালিন সময়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজিব বিশ্বাস বলেন, যা হয়ে ছিল শুধু দেখেছি, অনুধাবন করেছি ; বলার কিছু ছিলনা। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা: আশরাফ আলী শেখ, পলাতক প্রধান শিক্ষক অবনী মোহন বসু, সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মফিজুর রহমান, শিক্ষক সুষেন কুমার ঢালী ও সুমনা সরকারকে এ বিষয়ে জানতে বারবার মুঠোফোনে রিং দেয়া হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।