কাউখালীতে দুটি হাইস্কুলে শিক্ষক সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা

এফএনএস (মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক; কাউখালী, পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
কাউখালীতে দুটি হাইস্কুলে শিক্ষক সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা

পিরোজপুরের কাউখালীতে দুইটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক সহ দুটি বিদ্যালয়ে ৩৪টি পদের মধ্যে ২১ টি পদ শূন্য রয়েছে। কাউখালীতে মাধ্যমিক স্তরের ২টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯শত শিক্ষার্থী থাকলেও দুইটি বিদ্যালয়ে মাত্র ১৩ জন  শিক্ষক রয়েছে। ফলে শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকের পদগুলো শুন্য থাকায় পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে । ১৯৮৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ কাউখালী এসবি বালিকা বিদ্যালয় এবং কেজি ইউনিয়ন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় দুটিকে সরকারি ঘোষণা করেন। এরপর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠান ২টি কোন সময়ই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক কাঠামো পায়নি। অথচ সরকারি হওয়ার পর থেকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চললেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান দুটি কালের সর্বোচ্চ শিক্ষক কর্মচারী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিতে ৩৪টি শিক্ষকের পদ ও ১০টি তৃতীয় /চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ আছে ।অথচ দুটি বিদ্যালয় কর্মরত শিক্ষক আছে আছে মাত্র ১৩জন । বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক ও শ্রেনী শিক্ষক সংকটের কারনে সঠিকভাবে চলছে না পাঠদান কর্মসূচী। উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ জনসংখ্যা সহ ভৌগলিক কারনে পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ ও রাজাপুর উপজেলার অনেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থাও অনেকাংশে নির্ভর করছে এই দুইটি বিদ্যালয়ের উপরে। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির পাঠদানের এই দূরাবস্থার কারণে ছিটকে পড়ছে সাধারণ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা । অন্যদিকে শহরমুখি হচ্ছে সচ্ছল পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা। অভিভাবকদের দাবি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মান ঠিক রাখতে অতি সত্তর শিক্ষক -কর্মচারীদের শুন্য পদ পূরণ করা না হলে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র অভিভাবক আব্দুস সালাম এবং ছাত্রী অভিভাবক মাহমুদ হোসেন বলেন, সারাদেশে সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে তবে কাউখালী উপজেলার দুইটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট সর্বাধিক। শুন্যতায় ভাসছে কাউখালীর শিক্ষা ব্যবস্থা । এস.বি. সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আকতার হোসেন হাওলাদার জানান, শিক্ষকের ১৭টি পদ থাকলেও প্রধান শিক্ষক সহ ১১জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছেন।এবং কর্মচারীদের চারটি পদের সব কয়টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়া তালি দিয়ে কোনভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৪৫৬ জন ছাত্রী রয়েছে। অপরদিকে সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন ১৭ জনের পদ থাকলেও ৬ জন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়।  বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় খুবই বিঘ্ন ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ফলে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বাকি শিক্ষক ও কর্মচারীদের পথ গুলো শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩৩৫ জন ছাত্র রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন শিক্ষক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকটের সমাধান হবে।  কিাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা দুইটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে ফলে পাঠদানের বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টা আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে