“সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ”শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেছেন, ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানির অভাবে হাওর অঞ্চলে ধান ঘরে তুলতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে-এ বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভূমধ্যসাগরে সাম্প্রতিক ঘটনায় ১২টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে। মন্ত্রী জানান, জলমহাল আইন, ২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এভাবে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ খুব কমই নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ দিলনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্মশালার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন অমিত চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, অংশীজনদের উপস্থিতিতে এ ধরনের আয়োজন বিরল। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে-যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা জলমহালের সুফল পায় এবং একইসঙ্গে সরকারি রাজস্বও নিশ্চিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত জেলেরা জলমহালের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছেন। তারা জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি নজরে রাখার আশ্বাস দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে হাঁস-মুরগি পালনসহ অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জলমহাল ইজারার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়েও ভাবনার কথা জানান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন জলমহাল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা উপকৃত হবেন এবং এ খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।