পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির পর শিখন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আজ শনিবার দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বছরের বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা ও সিলেবাস শেষ করতে আগামী আরও ৯টি শনিবার (মোট ১০টি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও নিয়মিত পাঠদান অব্যাহত থাকবে। শনিবার সকালে সাতক্ষীরা সদরসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, জেলায় আজকের উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশের উপরে। তবে শ্যামনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা আজকের পাঠদান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজকের পাঠদানের সচিত্র তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সদরের ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীন আহমেদ জানান, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্লাসে অংশ নিয়েছে। দক্ষিণ ফিংড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা জানান, অভিভাবকগণ শনিবারের এই বাড়তি শ্রেণি কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। তবে গরমের কারণে স্কুল পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। শ্যামনগরের হায়বাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও একই মন্তব্য করে বলেন, শ্যামনগরে বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে ক্লাস পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। উপজেলাজুড়ে একই অবস্থা বিরাজ করছে। তবে জেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থীর হাম বা গুরুতর অসুস্থতার খবর না থাকলেও, অনেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে ছোট ভাইবোনদের সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচন, রোজা ও ঈদের কারণে বছরের প্রথম তিন মাসে শ্রেণি কার্যক্রম তুলনামূলক কম হয়েছে। বিশেষ করে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ ৩৭ দিনের ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যবস্থা। অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অফিস আদেশে বলা হয়েছে: "শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেবাস সময়মতো শেষ করা জরুরি। ঘাটতি পূরণে ছুটির পরবর্তী ১০টি শনিবার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।" উল্লেখ্য, প্রাথমিক স্তরে আগামী ১০ সপ্তাহ শনিবারের ছুটি স্থগিত থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। শনিবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুরোদমে ক্লাস শুরু হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষাকার্যক্রমে পুনরায় গতি ফিরবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।