সংবাদ সম্মেলন

বাগমারায় নিরাপত্তা ও হামলা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
বাগমারায় নিরাপত্তা ও হামলা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি
পরিবারের নিরাপত্তা ও হামলা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর বাগমারার বালিয়া গ্রামের ক্যাবল ব্যবসায়ী সোনা উদ্দিন (৫৬)। পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন তিনি। বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান। আজ শনিবার দুপুরে ডিস ব্যবসায়ী সোনা উদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তিনি দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে মাড়িয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে ক্যাবল (ডিসের) ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় একটি পক্ষ তাকে উচ্ছেদ করে ব্যবসা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বাপ্পি, কাউসার, বাপ্পিসহ কয়েকজন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের অনুসারী ছিলেন তাঁরা। এসময় তাঁরা পাঁচটি গ্রাম থেকে সোনা উদ্দিনকে উচ্ছেদ করে দখলে নেন। সে থেকে পাঁচটি গ্রামের গ্রাহকদের মধ্যে ব্যবসা করে আসছেন তিনি। এদিকে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুরো আগের সংসদ সদস্যের অনুসারীর ভোল্ট পাল্টে নিজেদের ক্ষমতাসীন বিএনপির লোক পরিচয় দেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবশিষ্ট পাঁচটি গ্রাম থেকে সোনা উদ্দিনকে উচ্ছেদ করে পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালান বাপ্পিসহ তাঁর লোকজন। সোনা উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা প্রতিনিয়ত তাদের লাইনের ক্যাবল তার কেটে বাধার সৃষ্টি করেন। গত ২৮ মার্চ ক্যাবল তার কেটে দেওয়ার কারণে অর্ধশত গ্রাহকদের বাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার রাতে তাঁর ছেলে নাজমুল ইসলাম ও লাইনম্যান মোনায়েম হোসেন যাত্রাগাছি এলাকার একটি পোলে গিয়ে তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা দেখতে পান। এসময় সংযোগ চালু করার জন্য পোলে উঠলে প্রতিপক্ষরা তাঁদের ঘিরে ফেলেন। এসময় নামজুল ইসলামের চোখে টর্চলাইট ধরে লাইনম্যানকে পোল থেকে নামিয়ে লোহার রড ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে চলে যান প্রতিপক্ষরা। তাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে নামজুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার বাড়ি ফিরলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। বুকের এক পাশে ফুটো করে নলের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সোনা উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর গত ৩০ মার্চ থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ' মামলার পর থেকে আসামি ও তাদের লোকজন হুমকি দিচ্ছেন। ওরা সব সময় ক্ষমতাসীন দলে থাকে। ওদের পেছনে নেতারা আছেন। নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে রয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন ইসলাম বলেন, আসামিরা পালিয়ে আছে, এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ট্যাকিং করে অন্য এলাকায় অবস্থান করছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে