রাজশাহীর তানোরে চৈত্রের তাপদাহ ও প্রচন্ড রোদে অস্বস্তিতে পড়েছেন কৃষি কৃষকরা। অপরদিকে হাটবাজার গুলোতেও মানুষের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকে হঠাৎ করেই তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন কৃষি শ্রমিকসহ সাধারন মানুষ। ফলে সাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাণ কেন্দ্র রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পুরোদমে চলছে আলু উত্তোলন এবং বোরো ধান রোপণ। একই সাথে চলছে বিল কুমারী বিলের জমিতে রোপনকৃত বোরো ধানের পরিচর্যা। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দুপুর ১টার আগেই মাঠ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। তানোর পৌর এরাকার ধানতৈড় গ্রামের জাহাঙ্গীর নামের এক কৃষক বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মুন্ডুমালায় তেলের খোঁজে যান। কিন্তু চাহিদামতো তেল পাননি। তিনি বলেন, মুন্ডুমালা থেকে দুপুর ২টার দিকে ফেরার সময় তাপপ্রবাহ মুখোমন্ডল জ্বলে যাওয়ার মত অবস্থা অনুভব হয়েছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় শনিবারের তাপমাত্রা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হলেই মুখমণ্ডলে রোদের প্রখোর তাপ লেগে জ্বালাপোড়া করছে। তিনি বলেন, প্রচন্ড রোদে কৃষি কাজের শ্রমিকরা ভোরে কাজ শুরু করে বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে ১ পর্যন্ত কাজ করার পর আর মাঠে ঠিকতে না পেরে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। রোদের তাপ কমে গেলে বিকালে আবারো মাঠে যাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। তানোর থানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় দুপুর ১টার পর থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাধারন মানুষের উপস্থিতি তেমন দেখা যাচ্ছে না। থানা মোড়ে ভ্যানে করে পেয়ারা বিক্রেতা লিটন বলেন, সকালে মানুষের উপস্থিতি ও বেচা কেনা হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রচন্ড রোদের তাপপ্রবাহের কারণে হাট বাজারেও লোকজন উপস্থিতি তেমন নেই। এই রোদের তাপে রাস্তায় ভ্যান নিয়ে থাকতে পারছি না। আলুর জমিতে কাজ করে বেলা ১টার দিকে ফিরে আসছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। কথা হয় তাদের সাথে। হাসান আলী নামের এক কৃষি শ্রমিক বলেন ভোরে কাজ শুরু করেছি বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাজ করা কথা কিন্তু রোদে মাঠে ঠিকে থাকা যাচ্ছে না তাই চলে আসলাম বিকালে আবার কাজ শুরু করবেন বলেও জানান তিনি। আলু তোরার পর ওইসব জমিতে বোরো রোপনের কাজ করছিলেন কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর নারী। কথা হয় তাদের সাথে। নাইক্যা টুডু নামের এক নারী কৃষি শ্রমিক বলেন, সকাল ৮ টা থেকে বেলা ৪ টা পর্যন্ত কাজ করি আমরা। তিনি বলেন, গত কযেকদিন থেকে রোদের তাপ বেশি হওয়ায় ভোর ৬ টা থেকে কাজ করছি বেলা ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে। এখন বাজে ১২টা প্রচন্ড রোদ পড়ছে খুব কষ্ট হচ্ছে তারপরও ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি। অটোভ্যান চালক তৈয়ব বলেন, শনিবারও তাপমাত্রা অনেক বেশি, আবার ছুটির দিন হওয়ায় যাত্রীও কম। ভাড়া তেমন হচ্ছে না। বোরো ধানের পরিচর্যার কাজ করছিলেন কৃষি শ্রমিক খাইরুল ও মোস্তফা। তারা বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা অনেক বেশি। মাঠে কাজ করতে গিয়ে টিকে থাকা যাচ্ছে না। শরীর জ্বলে যাচ্ছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘনঘন পানি পান করেও পিপাসা মিটছে না। শাকির নামের এক কৃষক বলেন, সকাল ১০টার দিকে জমি দেখতে গিয়ে গরমে থাকা যায়নি। বাতাস নেই, তাপে শরীর জ্বলছে। দিনের বেলা সেচ কাজ পরিচালনা করা কষ্টকর। এভাবে তাপমাত্রা চলতে থাকলে রাতে সেচ দিতে হবে। সোলাইমান নামের আরেকজন শ্রমিক বলেন, দুপুর ১টার পরে রোদের তাপ অনেক বেশী হওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। বেরা ১০টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত রোদের তাপ বেশি হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন কৃষি শ্রমিকরা। আবহাওয়ার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তানোর উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সর্বচ্চ ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৭ ডিগ্রী ও সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রীর মধ্যেই উঠানামা করছে। সপ্তাহ জুড়েই এমন তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।