উপকূলের সমুদ্রগামী

জেলেদের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল সরবরাহ, ফিরেছে স্বস্তি

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম | প্রকাশ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
জেলেদের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল সরবরাহ, ফিরেছে স্বস্তি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া কুয়াকাটা উপকূলে মাছ ধরা নিশ্চিতে সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র জেলে জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় রেখে জরুরিভাবে ২৭ হাজার লিটার ডিজেল অতিরিক্ত সরবরাহ করা হয়েছে। আজ শনিবার শেষ বিকালে কলাপাড়া উপজেলার বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশন ও আলীপুর  ফরাজী ট্রেডার্স পাম্পের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।  ছোট-মাঝারি ও বড় ট্রলারকে চাহিদা অনুসাওে ৪০০/৬০০-১০০০ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। জ্বালানি তেল বিতরণের জন্য আগেই আলীপুর  ফরাজি ট্রেডার্স পাম্পে ১২ হাজার এবং বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশন কে ১৫ হাজার লিটার ডিজেল অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)  মো. ইয়াসীন সাদেক এ খবর নিশ্চিত করেন। জেলেদের জ্বালানি সংকট কাটাতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন ইয়াসীন সাদেক। প্রায় ১০০ ট্রলারের জেলেরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আগামিকালও জ্বালানি সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে।

তিনি জানান, মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত)  মিজানুর রহমান কে বিষয় টি অবগত করে সুষ্ঠুভাবে জেলেদের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাহিদা সচল রেখে জেলেদের জন্য এটি বিশেষ ব্যবস্থাপনা ছিল। সমুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ১৫ এপ্রিল। এরই মধ্যে অন্তত একটিবার জেলেরা যেন সাগরে মাছ ধরার সুযোগ পায় এর জন্য এমন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলে, ট্রলারমালিকরা তাঁদের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিছুটা যেন সচল করতে পারেন তার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৭ হাজার লিটার ডিজেল আলীপুর ও মহিপুরে পেট্রোল পাম্প এলাকায় ওখানকার জেলেদের মধ্যে সরাসরি সরবরাহ করায় জেলে, ট্রলার মালিকদের মনে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। যদিও এই পরিমাণ ডিজেলে জেলেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংকট দূও হবে না। তারপরও অন্তত প্রায় ২০০ ছোট-বড় ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের সুযোগ পেল। ট্রলার মালিক ও জেলেরা জানান, বড় ধরনের ট্রলার যারা ১৬-২৫ জন জেলে নিয়ে ১৫-১৬দিনের জন্য সমুদ্রে যায় তাঁদের প্রত্যেকের একেকবারে ৭০০-৮০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু জ্বালানি তেলের ভয়াবহ সংকটে কলাপাড়া উপকূলের প্রায় ২৫০ ট্রলার মালিকসহ অন্তত ২০ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েন। বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমে উঠে আসায় উপজেলা প্রশাসন থেকে এমন জরুরি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে প্রয়োজনে আরো ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মৎস্য ব্যবসায়ী নেতা গাজী ফজলু জানান, জেলেদের জীবন-জীবিকার কথা ও সমুদ্র অর্থনীতির কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ট্রলারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আজকের উদ্যোগের জন্য তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

মৎস্য বন্দর মহিপুর আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, সরকারের এমন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জেলেদের অনেক কাজে আসবে। এমন উদ্যোগের তিনি প্রশংসা করেন।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, জেলেদের সমস্যাটি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ডিজেল সরবরাহের জন্য কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে