খুলনার পাইকগাছায় সোলাদানা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান গাজী ও লতা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক তদন্ত সম্পন্ন করেছেন প্রশাসন। গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি দুইজন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন। এসময় পরিষদের ইউপি সদস্যরা লিখিত ভাবে অনিহা প্রকাশ করলে সাবেক দুই চেয়ারম্যানের দায়িত্বের ফেরার বিষয়টি অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পাশাপাশি সাবেক দুই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেন এলাকার শতশত নারী পুরুষ। জানাগেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারী খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানদের ন্যায় সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান গাজী ও লতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস ও লতা ইউনিয়ন পরিষদে এসডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে তদন্ত সম্পন্ন করেন। তদন্তকালে ইউপি সদস্যরা দুই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার আবেদনের লিখিতভাবে অনিহা প্রকাশ বা বিরোধিতা করেন বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান। এদিকে সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তকালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান গাজীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে শত-শত নারী পুরুষ চারাবান্ধা বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস জানান, মান্নান গাজী কখনো স্বপদে ফিরবেন না, এমনটা নিশ্চিত করলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান পিযুষ কান্তি মন্ডল, ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান লাভলু, আবুল কালাম আজাদ, শেখর ঢালী, শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ, আবু বক্কর সিদ্দিক শিকারী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রবীর গোলদার, নাসিমা বেগম, আসমা খাতুন ও নাসিমা বেগম। উলেখ্য, সাবেক লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস এক কিশোরীর সাথে আপত্তিকর সেক্সসুয়াল ভিডিও কল ফাঁস হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় লতা ইউনিয়নবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেন। পরবর্তীতে খুলনা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মতামতের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুন-২০২৩ এ এক প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র উপ সচিব জেসমীন প্রধান চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে ৩ মাস ২২ দিন বরখাস্ত থাকার পর আবার স্বপদে বহাল হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় জনতার ভয়ে পরিষদে আসতে না পারায় আবার স্বপদে পুনর্বহালের জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট আবেদন করলে ২ এপ্রিল-২৬ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তের জন্য আসেন উপজেলা এসডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া। এখবর জানতে পেরে এলাকাবাসী অনিয়ম, দূর্নীতির, শিরোমণি কাজল কান্তি বিশ্বাসের স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য এ মানববন্ধন এর আয়োজন করেন। লতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সড়কে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আবুমুছা সরদারের সভাপতিত্বে চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। শহিদুল ইসলাম খলিফার সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস, আক্তার সরদার, ইয়াছিন সরদার, বাচ্চু সানা, খোকন গাজী, তপন মন্ডল, আমিরুল ইসলাম, নূরইসলাম সানা, ইব্রাহিম সরদার, সালাম সানা ও আজিজ সানা প্রমূখ।