বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) প্রশিক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক চাঁদার হার বৃদ্ধি করেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সম্প্রতি জারি করা এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এখন থেকে বিএনসিসি কার্যক্রম থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাডেটদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও বাড়তি হারে এই ফি প্রদান করতে হবে। মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনসিসি’র প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ খাতে চাঁদার পরিমাণ পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসির প্লাটুন বা কার্যক্রম বিদ্যমান, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক চাঁদা ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে। এই ৬০ টাকার মধ্যে ৫০ টাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিএনসিসি প্লাটুনের ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হবে এবং বাকি ১০ টাকা জমা হবে বিএনসিসি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ তহবিলে।
অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের সব সাধারণ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই চাঁদার হার সামান্য বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বার্ষিক ৫ টাকা হারের এই চাঁদা বাড়িয়ে ৬ টাকা করা হয়েছে, যা সরাসরি বিএনসিসির কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলে জমা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় শাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মাউশি এই আদেশ জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে দেশের সকল অঞ্চলের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত হারে চাঁদা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনসিসির প্রশিক্ষণ ব্যয় ও ক্যাডেটদের কল্যাণ তহবিলের পরিমাণ অপরিবর্তিত ছিল। বর্তমান বাজারদর এবং প্রশিক্ষণ উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই সরকার এই নামমাত্র চাঁদা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিএনসিসির সেবামূলক কার্যক্রম ও ক্যাডেটদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।