কালীগঞ্জে হলুদের কারখানায় ভেজাল দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
কালীগঞ্জে হলুদের কারখানায় ভেজাল দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ শহরে শিবনগর এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ও গোপনীয় ভাবে হলুদে ভেজাল দিয়ে মাড়াই করছে।এ কারখানায় ক্ষেতের হলুদের সঙ্গে ধানের কুড়া,পচা চাউল, ভুট্রা,বুটের ডাল ও রং মিশিয়ে মেশিনে তৈরি করা হচ্ছে গুঁড়া হলুদ। এই হলুদ গুলো প্যাকেট করে পাইকারী দামে বাজারজাতে মেতে ওঠেছে বিশাল একটি চক্র। কালীগঞ্জ শহরে শিবনগরে অবস্থিত  সাইনবোর্ড বিহীন তোতা মিয়ার মিয়ার মিলে গুড়া হলুদ তৈরি করছে দেদারছে।তোতা মিয়ার মিলটি ভেজাল হলুদ তৈরি করা যায় এমন প্রচারে বড় প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিতি রয়েছে।এই মিলটিতে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও বাইরে থেকে আসা অসাধু ব্যবসায়িরা বিপুল পরিমাণ শুকনো হলুদ মাড়াই করার সময় বিভিন্ন উপকরনসহ রং মিশিয়ে দিচ্ছে।ভেজাল হলুদ মাড়াই করনের সময় মিলটির প্রবেশের দরজা বন্ধ করে ৭/৮ জন শ্রমিক দির ও রাতে ভেজাল মেশানোর কাজ করা হয়।কালীগঞ্জে শুক্রবার ও শনিবার দুটি সাপ্তাহিক হাটের দিন হলুদে ভেজাল মেশানের কাজ বেশি হয়।দীর্ঘদিন যাবত তোতা মিয়া তার হলুদের মিলে ভেজাল মেশানোর কাজ বীরদর্পে চালিয়ে গেলেও প্রশাসনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এক ব্যাক্তি বলেন, মিল মালিক প্রশাসনিক সবকিছু ম্যানেজ করে হলুদে ভেজাল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।কালীগঞ্জের ভেজাল হলুদ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। সরেজমিনে মিলটিতে গিয়ে কুড়া,পচা চাউল, ভুট্রা,বুটের ডাল ও রং মিশিয়ে বুট ও আতপ চাউল মেশানো দেখা মেলে মিলের পিছনে স্তুপ করে রাখা হয়েছে এসব ভেজাল দেওয়ার বিভিন্ন প্রকার অখাদ্য পচা চাউল।হলুদে ভেজাল মেশানোর ব্যাপারে মিলটির স্বত্বাধিকারী তোতা মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন। এসময় তিনি বলেন,শুকনা হলুদ মেশিনে ভাঙালে কমে যায়। এজন্যই বিভিন্ন ব্যবসায়িরা চাউলের গুড়াসহ নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য মিশিয়ে থাকে। তিনি দাবি করেন কালীগঞ্জ শহরে যেসব মিল রয়েছে প্রতিটি মিলে নাকি এভাবে হলুদের বিবিন্ন প্রকার ভেজাল দেওয়া হয়।নিরাপদ খাদ্য আইন মোতাবেক ২০১৩ অনুযায়ী ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, আমদানি,প্রক্রিয়াকরন বা বিক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে ।এই আইন অনুযায়ী, ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে খাদ্য উৎপাদন বা বিপণন গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কালীগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর কবির বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই মিলটিতে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, খাদ্যে বা হলুদে ভেজাল মেশানো আইনত দন্ডনিয় অপরাধ। এই ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে