নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের এক অনন্য সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চিনি মসজিদ ঘেঁষে অবস্থিত খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কবরস্থান। ভিন্ন ধর্মের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাশাপাশি অবস্থান করলেও এখানে নেই কোনো বিভেদ,বরং আছে সহাবস্থান,পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সৌহার্দ্যরে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঐতিহাসিকভাবে চিনি মসজিদ সৈয়দপুরের অন্যতম প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। মসজিদের নান্দনিক কারুকাজ এবং শান্ত পরিবেশ প্রতিদিন বহু দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। ঠিক এর পাশেই শান্তভাবে বিস্তৃত খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান, যেখানে নীরবতায় লুকিয়ে থাকে জীবনের নানা গল্প ও স্মৃতি। স্থানীয়দের মতে,বছরের পর বছর ধরে এই দুটি স্থাপনা পাশাপাশি থেকেও কখনো কোনো ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হয়নি। বরং ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ দিনে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতার নজির দেখা যায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন কবরস্থানের পবিত্রতা বজায় রাখতে সচেতন, তেমনি খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষও মসজিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। এলাকাবাসী মনে করেন,বর্তমান বিশ্বে যখন ধর্মীয় বিভেদ প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, তখন সৈয়দপুরের এই দৃশ্য আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। এখানে ধর্ম নয়,মানুষই মুখ্য এই বার্তাই যেন প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে দেয় চিনি মসজিদ ও খ্রীষ্টান কবরস্থানের এই সহাবস্থান। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদাহরণগুলো তুলে ধরা জরুরি, যাতে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষও শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে। সৈয়দপুরের এই সম্প্রীতির সেতুবন্ধন শুধু একটি স্থানিক বাস্তবতা নয়,বরং এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক চেতনার প্রতিফলন। সবশেষে বলা যায়, চিনি মসজিদ এবং এর পাশের খ্রীষ্টান কবরস্থান শুধু দুটি স্থাপনা নয়,বরং এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং মানবিকতার এক জীবন্ত প্রতীক, যা আমাদের সকলের জন্য গর্বের। সবচেয়ে মনে রাখার বিষয় হল খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীর কবরস্থান দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে ইসলাম ধর্মের মোঃ আবু সাঈদ। তার সাথে আছেন চাচারাও। কবরস্থানের এক কিনারায় তাদের বসবাসের জন্য করে দেয়া হয়েছে বাসা। মুসলিম হয়ে খ্রীস্টান ধর্মীয় কবরস্থান দেখভাল করার বিষয়ে আবু সাঈদ বলেন,সবাই আমরা মানুষ। আর কবরস্থান হল পবিত্র স্থান। এখানে শায়িত ব্যক্তিদের কবর দেখভাল করি,কবরস্থানকে পরিচ্ছন্ন করি,গাছ লাগাই আমাকে খুবই ভাল লাগে। মায়ের কবরে আরাধনা করতে আসা খ্রীস্টান আঞ্জেলো মন্ডল জানান,কবরস্থানের প্রধান ফটকের সামনে ডাস্টবিন থাকায় পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বাতি না থাকায় রাতে দাফন কাজে সমস্যা হয়। তাই কমপক্ষে কবরস্থানে ১০ টি বাতি প্রয়োজন। তাছাড়া কবরস্থানের প্রধান ফটকের সামনে পৌরসভা কর্তৃক দেয়া হয়েছে একটি ডাস্টবিন। ওই ডাস্টবিন থেকে ময়লা পঁচে বিশ্রী দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এতে কবরস্থানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কবরস্থানের সামনের কিছু জায়গা দখল করে রেখেছে কতিপয় ব্যক্তি। এ সমস্যা সমাধানে তিনি জেলা প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি কামনা করেছেন।