আশাশুনির কাকবাসিয়ায় পাউবো'র বেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) :
| আপডেট: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
আশাশুনির কাকবাসিয়ায় পাউবো'র বেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার পরিবার ভাঙন আতঙ্কে ভুগছে।  আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া খেয়াঘাটের কাছে পাউবো'র বাঁধে সম্প্রতি মাটি-বালি ভর্তি বালির বস্তা/জিএ ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হয়েছে। মানুষ ভেবেছিল বেশ কিছুকাল ভাঙ্গন আতঙ্ক থেকে তারা নিস্কৃতি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু না বেশীদিন আনুলিয়ার জনসাধারণকে শান্তিতে থাকা হলোনা। বাঁধটিতে কয়েকদিন আগে থেকে ফাটল শুরু হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮ টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের চাপে সবুর গাজীর বাড়ির কাছে ফাটলে বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা দেয়। এবং মুহুর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ হাত বাঁধের মাটি ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গন ক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে বাঁধটি খুবই হুমকীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বাঁধে ডাম্পিয় করা স্থানে ডাম্পিং এর কাছ পর্যন্ত ভাঙ্গন চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে যে কোন মুহুর্তে বেড়ী বাঁধ ধ্বসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। বাঁধের ৫০ ফুট উত্তরে একটি পয়েন্টে এবং ১০০ ফুট দক্ষিণে একটি পয়েন্টে বাঁধের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। এসব স্থানে দ্রুত সংস্কার ও বাঁধ রক্ষার কাজে হাত দিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।  বাঁধ ভাঙ্গনের খবর শুনে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওঃ হারুন অর রশিদ, শিক্ষক আবু দাউদ, মাওঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছেন।  ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছ জানান, বাঁধটির ভাঙ্গন খুবই ভয়াবহ। প্রতিনিয়ত কিছু কিছু অংশের মাটি নদীতে ধ্বসে পড়ছে। গত বছর ঈদের দিন নামাজ শুরুর সময় বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। আনুলিয়ার ১৫০০০ মানুষ জলমগ্ন ও ঘরবাড়ি, জমির ধান, অন্যান্য ফসল ও মৎস্য ঘের-পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছিল। আজকে রাতের জোয়ারের আগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ রক্ষা করা যাবে কিনা বলা কঠিন। তিনি দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থান পরিদর্শন করে ডাম্পিং এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে জোর দাবী জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে