গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার খিরাটী মধ্যপাড়া এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্য (মাদক) সেবনে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নেশাজাতীয় দ্রব্য মাদক সেবনে মারা যাওয়া মো: তানজিল হোসেন (২৬) মোঃ মোক্তার হোসেনের ছেলে। তানজিল হোসেন ১৬ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তানের জনক। মাদক সেবনে তানজিলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা যায়, নিহত যুবক মো: তানজিল ছিলেন বাবা-মায়ের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। শৈশবে যার চোখে ছিল রঙিন স্বপ্ন, বড় হয়ে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে বছর ছয়েক আগে সে পাড়ি জমিয়েছিলো সৌদি আরবে। কয়েক মাস সেখানে অবস্থান করে ফিরে আসেন দেশে। হতাশা থেকে সেই ছেলেটিই ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় মাদকের অন্ধকার জগতে। প্রথমে বন্ধু-বান্ধবের প্রলোভনে পরে নেশার প্রতি আসক্তি।এক সময় তা তার জীবনের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়।
পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও তার বাবা মোক্তার হোসেন জানান, বহুবার তাকে (তানজিল) স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো ভালোবাসা দিয়ে, কখনো কঠোরতা দিয়ে। সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত মাদকের টান তাকে আবারও সেই অন্ধকারে টেনে নিয়ে যায়। পরিবারের চোখের সামনে ধীরে ধীরে নিভে যেতে থাকে একটি সম্ভাবনাময় জীবন।
এদিকে ঘটনার দিনও ছিল তেমনই একটি কালো অধ্যায়। বাড়ি থেকে একটু দূরে নির্জন ও পরিত্যক্ত একটি ঘরে মাদক সেবন করতে যায়। অতিরিক্ত মাদক সেবনের পর হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তানজিল। এক মুহূর্তেই থেমে যায় একটি তরুণ হৃদয়ের স্পন্দন, থেমে যায় হাজারো স্বপ্নের পথচলা।
সরেজমিন নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মায়ের বুকফাটা কান্না, বাবার নিথর দৃষ্টি, স্ত্রী আর ষোল মাস বয়সী অবুঝ সন্তানের স্তব্ধতা। সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিবেশ। ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন, 'মাদক আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে, আমরা আর কত দেখব?'
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের সহজলভ্যতা বেশি। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশা মাদক। আরো কয়েক বছর আগেও এমন পরিবেশ ছিলো না। এই গ্রামটি ছিলো উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিতের হার ও আদর্শ একটি গ্রাম।
কিন্তু দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে খিরাটী গ্রাম।
তারা আরো বলেন, অপ্রতিরোধ্যভাবে ছড়িয়ে পড়া এই মাদক ব্যবসার কারণে তরুণরা সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'শুধু ধরপাকড় নয়, মাদকের উৎস নির্মূল করতে হবে। নইলে এমন মৃত্যু থামানো যাবে না।'
এ বিষয়ে খিরাটী গ্রাম উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: মোস্তফা কামাল মঞ্জু বলেন, আমার একার পক্ষে সম্ভব না। যদি এই গ্রামের সকলে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই মাদক নির্মূল করা সম্ভব। প্রশাসন,গনমাধ্যম এবং গ্রামবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় মাদক নির্মূল করতে চেষ্টা করবো। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে কিন্তু কেউ তো এগিয়ে আসে না।
তিনি আরো বলেন, মাদক নির্মূলে আমরা কিভাবে এগিয়ে আসবো এ বিষয়ে আগামী শুক্রবার গ্রাম উন্নয়ন কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার এসআই মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে কোন ধরণের অভিযোগ না থাকায় এবং লাশ ময়নাতদন্ত না করার জন্য ওসি বরাবর আবেদন করায় তাদের (পরিবারের) কাছ থেকে মুচলেকা রেখে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।