৯ বছর ধরে তেল সংকটে ব্যাহত এলাকার চাষাবাদ

চিলমারীতে যমুনা ও মেঘনা ভাসমান ডিপোতে তেল নেই

এফএনএস (মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম সিদ্দিক; চিলমারী, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
চিলমারীতে যমুনা ও মেঘনা ভাসমান ডিপোতে তেল নেই

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের দুটি বার্জ ৯ বছর ধরে তেল শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে এই এলাকার কৃষি খাতে সেচসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তেল সংকট দেখা দেয়ায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলেন, তেলের ভাসমান দুই ডিপো দীর্ঘদিন থেকে তেল শুণ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে স্থানীয় এলাকার কৃষি কাজে ব্যবহৃত ডিজেল কিনতে হচ্ছে পার্বতীপুর ডিপো থেকে। কাজেই বেড়েছে তেল পরিবহন খরচ। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বিষয়টি দ্রুত মীমাংসার দাবি জানান স্থানীয়রা। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাসের কারণে তেল ভর্তি জাহাজ আসতে না পারায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ১৯৮৯ সালে চিলমারীতে মেঘনা ও যমুনা কোম্পানীর দুটি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপনের পর থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আসছে। দুই ডিপোর অনুমোদিত ২২জন ডিলার সরকারি দরে তেল কিনে এসব এলাকা খুচরা বিক্রি করতো। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও ২২ ফেব্রয়ারি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের তেল শেষ হওয়ার পর থেকে ৯ বছর ধরে তেল সরবরাহ বন্ধ। এছাড়াও চলতি মৌসুমে হঠাৎ তেল সংকটের সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাসমান দুই তেল ডিপো থেকে চিলমারী,উলিপুর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট,সুন্দরগঞ্জ ভুরুঙ্গামারী, নারায়নপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা, রৌমারী, রাজিবপুর, সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ, কামারজানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচ মৌসুমে তেল সরবরাহ করা হয়। এ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, ড্রেজার মেশিন, জমি চাষের ট্রাক্টর, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালিত জেনারেটর, মাহেন্দ্র গাড়ি এবং বিভিন্ন যন্ত্র চালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৯০ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভাসমান ডিপো দুটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। স্থানীয় কৃষক সোহেল, আনোয়ার হোসেন ও মহির উদ্দিন বলেন, ভাসমান তেল ডিপো থেকে তেল কিনলে সাশ্রয় হতো। কিন্তু ডিপোতে তেল না থাকায় বেশি দামে বাজার থেকে তেল কিনে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। তার উপর হঠাৎ তেল সংকট সৃষ্টি হওয়ায় এতে খরচ যেমন বেড়েছে, চাষাবাদ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। যমুনা অয়েল কোম্পানী লিঃ এর ডিপো ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাসমান ডিপোটি স্থায়ীকরণের জন্য বিপিসি’র একটি টিম গত ২ বছর আগে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাসের কারণে তেল ভর্তি জাহাজ আসতে না পারায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরকারিভাবে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ ট্যাং-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল হক জানান, ডিপোটি স্থায়ী করণের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক  বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক বরাবর ডিপোটি তেল সরবরাহের জন্য চিঠি প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা ইরি-বোরো, ভুট্টা, গম, বাদামসহ যে সকল ফসলে সেচের প্রয়োজন হয় সব চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে