শ্রীমঙ্গলে ‘গোল্ডেন সুইট’ বিপ্লব

এমডি-২ আনারস চাষে আতর আলীর বাজিমাত

এফএনএস (আতাউর রহমান কাজল; শ্রীমঙ্গল, মৌলভী বাজার) : | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
এমডি-২ আনারস চাষে আতর আলীর বাজিমাত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নীরবে গড়ে উঠছে ফল চাষের এক নতুন সম্ভাবনা। আর সেই সম্ভাবনার নাম-ফিলিপাইনের উন্নতজাত ‘এমডি-২’ আনারস। এ আনারস চাষ করে ইতোমধ্যে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মো. আতর আলী। আনারস, লেবুসহ বহুমুখী ফল চাষে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নিজের বাড়ির আশপাশ, সমতল জমি এবং উঁচুনিচু টিলা ভূমি কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন আনারস, লেবু, পেঁপে, শসা, লটকন ও কফির সমন্বিত বাগান। ফিলিপাইন থেকে শ্রীমঙ্গল-নতুন জাতের সফল অভিযাত্রা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমা পাল জানান, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত উন্নতজাত এমডি-২ আনারসের চারা শ্রীমঙ্গলের ২০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়। প্রত্যেকে পান ২,২৫০টি করে চারা। সে হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২০ জন আনারস চাষির মাঝে ৪৫ হাজার ফিলিপাইনের এমডি-২ আনারসের চারা বিতরণ করা হয়েছিল। শ্রীমঙ্গলের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু এমডি-২ আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। শুধু শ্রীমঙ্গলেই নয়, দেশের আরও ৭ জেলায় এ জাতের চারা বিতরণ করা হয়েছে। তবে উৎপাদনের মান ও স্বাদে শ্রীমঙ্গলের আনারস ইতোমধ্যে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। আতর আলী জানান, তিনি তার পাহাড়ি টিলা জমিতে এ চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিনবার ফলন পেয়েছেন। এতে তিনি আয় করেছেন লক্ষাধিক টাকা। স্বাদে-গন্ধে অনন্য, বাজারেও চড়া দাম। তিনি আরো জানান, এমডি-২ আনারস অত্যন্ত সুস্বাদু ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য। সহজে পঁচে না, আর বাজারমূল্যও বেশি। তাই আমি এই জাতের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। তিনি আরও জানান, এবার তিনি নিজেই এ জাতের চারা উৎপাদন করে বাণিজ্যিকভাবে সমপ্রসারণ করবেন। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর বলেন, ‘এমডি-২ আনারস একটি উচ্চ ফলনশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত জাত। এর স্বাদ, সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছেন।’ তিনি আরও জানান, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে এ আনারসের চাষ সমপ্রসারণে কাজ করছে।

কৃষি অফিস জানায়, বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ডেন সুইট’ বা ‘এক্সট্রা সুইট পাইনঅ্যাপেল’ নামে পরিচিত এমডি-২ আনারস ইতোমধ্যে ফিলিপাইন, কোস্টারিকা ও থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশেও এর চাষ সমপ্রসারিত হলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। শ্রীমঙ্গলের টিলা ভূমিতে এমডি-২ আনারসের সাফল্য শুধু একজন কৃষকের গল্প নয়-এটি দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত। আতর আলীর মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই হয়তো বাংলাদেশের ফল চাষ একদিন বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে