অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কষ্ট বৃথা যাবে না।”
‘আমরা একের পর এক উচ্চাভিলাষী আইন করে যাচ্ছিলাম। মানবাধিকার কমিশন, গুম, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, দুদক আইন ছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বলেছিলাম, এগুলোই প্রকৃত সংস্কারমূলক আইন’-পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল লিখেছেন, অনেকে তখন ‘কোথায় সংস্কার, কোথায় সংস্কার’ বা ‘সরকার তো কিছুই করছে না’ বলে আমাদের নাকচ করেছেন। কেউ কেউ ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। দুই-একজন পণ্ডিত এমন কথাও বলেছেন, এসব করে কী লাভ! এসব তো করবে নির্বাচিত সরকার!’
তার ভাষ্য, ‘এখন এটা ভেবে ভালো লাগছে যে, আমাদের বন্ধু ও সমালোচকেরা বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রণীত আইনগুলো আসলেও ভালো ছিল এবং এসব করে রাখা দরকার ছিল। পুরো দেশ এখন সোচ্চার হচ্ছে এই আইনগুলো রাখার দাবি নিয়ে।’
আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আমরা এই আইনগুলো প্রণয়ন করতে অনেক কষ্ট করেছি। আইন মন্ত্রণালয়ের তুখোড় মেধাবীদের নিয়ে গড়া একটা টিম দিন-রাত কাজ করেছে। আমরা রিসার্চ করেছি, নিজেরা বসে নিয়মিত আলোচনা করেছি, অন্যদের পরামর্শ নিয়েছি, বারবার ড্রাফট পরিমার্জন করেছি। এছাড়া সরকারের ভেতরে নানা প্রতিকূলতার সাথেও নিরন্তর লড়াই করেছি। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন প্রণয়ন করার জন্য আমাকে পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এত কষ্ট বৃথা যাবে না বলে বিশ্বাস করি। মানুষ বলতে শুরু করেছে- এসবই প্রকৃত সংস্কার, এসব অধ্যাদেশ রাখতে হবে। আমার মনে হয় না এসব আইন থেকে পিছিয়ে পড়া কারো পক্ষে সম্ভব হবে এখন।
‘আমাদের অন্য কয়েকজন উপদেষ্টাও আইনগত সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন। রাজস্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ে ভালো কিছু অধ্যাদেশ হয়েছে। আশা করি, আমরা সবাই এসব আইন রাখার বিষয়েও সচেতন থাকব’-যোগ করেন তিনি।