মাছ চুরির অভিযোগে নির্মম নির্যাতনে দৃষ্টিশক্তি হারালেন আব্দুস শুকুর

এফএনএস (এম এম মফিজুর রহমান; মোল্লাহাট, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
মাছ চুরির অভিযোগে নির্মম নির্যাতনে দৃষ্টিশক্তি হারালেন আব্দুস শুকুর

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় মাছ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির ওপর চালানো হয়েছে নৃশংস নির্যাতন। এতে আব্দুস শুকুর মৃধা (৫০) নামে এক ব্যক্তি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তার হাত-পা ও পাজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিবার। রবিবার দিনগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার আঙরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাবরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস শুকুর মৃধা ওই রাতে একটি মাছের ঘেরে চুরির অভিযোগে ধরা পড়েন। ঘের মালিক পরিচয়দানকারী শোলাবাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত মুন্সীর দাবি, তার মৎস্য ঘের থেকে মাছ চুরির সময় তার ছেলে রোমান মুন্সী (২৬) শুকুর মৃধাকে আটক করেন। এ সময় শুকুরের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত দিনো মোল্লা রোমানকে আঘাত করে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দিনো পালিয়ে যান। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি শুকুর মৃধার ওপর মারধর চালায়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তার চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে তার হাত, পা ও পাজরের হাড় ভেঙে যায়। ওই তথ্য সংগ্রহে সরেজমিনে গেলে ঘের মালিক লিয়াকত মুন্সী সহ বেশকিছু মৎস্যচাষী মিছিল করে বলেন, চুরি এবং চোরের উপদ্রব থেকে তারা বাঁচতে চায়। অন্যদিকে, শুকুর মৃধার পুত্রবধূ নিলা এ ঘটনাকে ‘পৈশাচিক নির্যাতন’ উল্লেখ করে বলেন, “যদি তিনি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেতো। কিন্তু যেভাবে তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ঘের মালিকরা বলছেন, এলাকায় মাছ চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে