অর্থ সংকটে সুখের খোজে ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীও চাঁদপুরের পুরানবাজারের সুজন মজুমদার কে ছেড়ে চলে গিয়েছে। সাথে নিয়ে গেছে সাজানো সংসারের সকল আসবাবপত্র ও একমাত্র পুত্র সন্তানটিকেও। কিন্তু এই স্ত্রীই একদিন বলেছিলো-‘জীবনে যাই হয়ে যাক না কেনো-কখনো তোমার হাত ছেড়ে চলে যাবো না’। রোববার (৬ এপ্রিল,২০২৬) কাঁদতে কাঁদতে এমন কথাই এ সংবাদ মাধ্যমকে জানাচ্ছিলো সুজন মজুমদার। সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরানবাজার নিতাই গঞ্জের একসময়ের বাসিন্দা বর্তমানে রয়েজরোড সরদার মার্কেটের বিপরীত একটি ছোট্ট এক কক্ষের টিনশেড দোকানে চিপস, চকলেট, কেক-বিস্কুট, চা বিক্রি করছেন সুজন। দোকানের মধ্যেই কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে একটি বিছানাও সাজানো রয়েছে। সেখানেই তিনি একা থাকেন। সুজন মজুমদার (৪৬) হচ্ছেন স্থানীয় মৃত সুখ রঞ্জন মজুমদার ও রেবা মজুমদারের ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ছোট সন্তান। এই ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে ২ ভাই আগেই মারা গেছে। বাকি যারা আছে তারাও তাদের মতো চলছে। বৃদ্ধা মা কখনো ভাই বা বোনের বাসায় থাকেন। সুজন বলেন, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে বাবা মারা যাওয়ার পর নানান কাজে জড়িত হয়ে আমার আয় রোজগার ভালোই চলছিলো। যুবক বয়সে বলাখাল রামপুরের মেয়ে মুক্তা রানী সাহাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। তখন সে আশ্বস্ত করেছিলো আমাকে যেকোন পরিস্থিতিতেও ছেড়ে যাবেনা।সেখানে আমার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আমি ডিসের লাইনের ব্যবসা করতাম। ২০২০ সালের দিকে ডিসের লাইনের কাজ করতে গিয়ে ২ তলা থেকে অসাবধনতাবশত পরে যাই। আর এতেই জীবন হতে সব এলোমেলো হয়ে গেলো। সুজন বলেন, আমি দোতলা হতে পরে গিয়ে পা ও মাজা অনেকটা অবশ হয়ে যায়। তখন আমার স্ত্রী যখন আমার সেবা শুশ্রূষায় সর্বোচ্চটা নিয়ে পাশে থাকার কথা। কিন্তু তা না করে সে উল্টো অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে যায়। যাবার সময় আমার অসুস্থ্য মাকেও একা রেখে সে আমার সন্তান তীর্থ মজুমদারকেও নিয়ে যায়। এমনকি ঘরে থাকা সকল মালামালও নিয়ে যায়। পরে ২০২৪ পর্যন্ত আমি অসুস্থ্য ছিলাম। নানান মানুষের সহায়তায় আমি থেরাপী চিকিৎসা করে এখন উঠে বসতে পারি এবং লাঠি ভর দিয়ে ধীরে ধীরে চলতে পারি। এখন মাঝে মাঝে পাশেই থাকা এক ভাইয়ের বাসায় দুপুরে এক বেলা খাওয়া দাওয়া করি। কতিপয় মানুষ আমাকে এই দোকানটা চালাতে কিছু চিপস, চকলেটসহ উপকরণ কিনে দেয়। এখানে এই দিয়েই দোকানে থেকে খেয়ে সময় কাটাচ্ছি ও জীবন যাপন করছি। সুজন আরও বলেন, আমার এই দোকান ভাড়া ১৮০০ টাকা। এই চিপস ও চকলেট তেমন একটা বিক্রি হয়না। এগুলোর টাকা দিয়ে সারামাসের আয়ে দোকান ভাড়া দিয়ে তেমন কিছুই থাকেন। চরম আর্থিক দুর্বিপাকে সময় কাটাচ্ছি। ইচ্ছে আছে, সমাজের দানবীর বা প্রশাসনিক সাহায্য সহায়তা পেলে দোকানটাতে একটা ফ্রিজ ও বিকাশের ব্যবসাসহ অন্যান্য মুদি মালামাল উঠাবো। এরপর সব জেনে শুনে যদি কোন নারী আমাকে বিয়ে করে তবে তাকে বিয়ে করে আমার জীবনের বাকি পথটুকু চলবো।