রংপুরের পীরগাছায় কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজে নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিজের দুর্ণীতি ঢাকতে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান স্কুলটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। সহকারি প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব না দিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কনিষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। যে কোন মুহুর্তে বিদ্যালয়টিতে অপ্রতিকর ঘটনার আশংকা করছেন অভিভাবকরা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছে উপজেলা বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির নেতারা।
জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান অবসরে যান। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়টিকে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন এবং অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। এছাড়াও তিনি ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের রিজার্ভ ফান্ডের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন তহবিলের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিম্নমুখী হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজের অনিয়ম আড়াল করতে সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগবিধির তোয়াক্কা না করে তার পছন্দের কনিষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান) ইশা খানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। তিনি অবসরের পরের দিন বেগ ডেটে ১৪ মার্চ ২০২৬ এর তারিখে ম্যানেজিং কমিটির এক সভা দেখিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারীকে নিয়মনীতি না মেনে সাময়িক বরখাস্ত করেন বলে জানা গেছে। এমনকি একজন অভিভাবক দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করান। এসব অনিয়ম করে তিনি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করেন ঈশা খানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করেন বলে অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেন। বিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক জানান, সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক বিগত দিনে আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে আতাত করেন একাধিক নিয়োগ ও অর্থ আত্মসাত করে লুটেপুটে খেয়েছেন। এখন তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়ে প্রভাব খাঁটিয়ে শেষ সময়ে এসব অপকর্ম করেন। তিনি এসব অপকর্ম করে তিন তলা আলিশান বাড়ি, তিনটি ট্রাক ক্রয়সহ অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার আমলের সকল আর্থিক কর্মকাণ্ডের তদন্ত এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এক অভিভাবককে দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সিনিয়র শিক্ষকগণ ও এলাকাবাসী এর সুষ্ঠু তদন্ত চান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আমার কোনো হাত নেই, এটি ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত। রফিকুল বারীকে নিয়ম মেনেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হক খাঁন জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিদায়ী প্রধান শিক্ষকই সবকিছু গুছিয়ে এনে তার কাছ থেকে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়েছেন। এদিকে উপজেলা বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জিল্লুর রহমান, সহ-সভাপতি শাহিনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সামছুদ্দোহা চঞ্চল এ ঘটনার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রফিকুল বারীর মতো একজন সৎ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অন্যায়ভাবে সরিয়ে রাখা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং একজন শিক্ষকের আত্মমর্যাদায় আঘাত। অনতিবিলম্বে তাকে পুনর্বহাল করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী করবো। এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহের আলী বলেন, ওই বিদ্যালয়ে বিষয়ে তিনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবগুলো তদন্ত করেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।