সাতক্ষীরায় ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ২৩ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু। একই সময়ে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪২ জন। হঠাৎ রোগীর এই চাপে হাসপাতালে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে অনেক শিশুকে বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ দিনে এসব শিশু ভর্তি হয়। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৬৭ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী আসায় দেখা দিয়েছে শয্যাসংকট। সদর উপজেলার নলকুড়া থেকে আসা ১৯ মাস বয়সী শিশু তাকরিমের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, কয়েক দিন আগে তার ছেলের প্রচণ্ড জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কাজ না হওয়ায় পরে তাকে সদর হাসপাতালে আনা হয়। একই অবস্থা তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজীর। তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মাহিম হুসাইনকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করছেন তিনি। শরিফুল ইসলাম নামের আরেক অভিভাবক জানান, তাঁর সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে আজমিরার খিঁচুনি দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে আনেন, কিন্তু বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া অস্থির হয়ে উঠেছে। কখনো প্রচণ্ড গরম, আবার কখনো হঠাৎ ঠান্ডা-এমন পরিস্থিতির সঙ্গে শিশুরা খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান বলেন, “শীতের শেষ দিকে বা রোজার সময়ে প্রকোপ কম ছিল। কিন্তু এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে ঠান্ডা-গরমের তারতম্য এবং সচেতনতার অভাবই এর মূল কারণ। অনেক অভিভাবক খুব দেরিতে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন, যার ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্নের ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান বলেন, শিশুদের ঠান্ডা থেকে রক্ষা করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সুষম খাবার খাওয়ানো এখন জরুরি। কোনো শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আক্রান্তের সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।