“জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া তোমাদের নৈতিক কর্তব্য।” এ কথা বলেছেন মোঃ আলী হোসেন ফকির। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী-এর প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অপরিহার্য। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সবসময় আপডেট রাখতে হবে।”
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন,
“তোমাদের সামনে যে পথ উন্মুক্ত হচ্ছে, তা যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বপূর্ণ। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি বলেন, “এই দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণকাল তোমাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করেছে।”
সবশেষে তিনি যোগ করেন, “তোমরা একটি মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছো, যার মূলমন্ত্র ‘সেবাই ধর্ম’। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।” এদিন বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে ২০৯ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জি এম আজিজুর রহমান, প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ। বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে বেস্ট ক্যাডেট ও একাডেমিকে ইজাজ আহম্মেদ হিমেল, ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজে ওলিউল্লাহ, শুটিংয়ে শুভ বিশ্বাস এবং সাঁতারে মোঃ রায়হান সেরা হন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ শেষে ২০৯ জন ক্যাডেট এসআইকে দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।