বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাতগুলোর মধ্যে একটি হলো রপ্তানি খাত। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা সীমিত হয়ে যাওয়ার বাস্তবতায় রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে, রপ্তানি বাড়াতে সরকার উচ্চাভিলাষী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে। জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৬৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৫৫ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ৮.৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণে তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, আইটি সেবা এবং ওষুধ শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, সরকার নগদ সহায়তা ও প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে ৪৩টি খাত নগদ সহায়তা পাচ্ছে, যা জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সহায়তার হার পণ্যের ধরন অনুযায়ী ০.৩০ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। তৈরি পোশাক শিল্পে স্থানীয় সুতা দিয়ে তৈরি পণ্যের রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ৫.৯ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সমপ্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার, যাতে ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস পরিশোধে মালিকরা স্বস্তি পান। বিজিএমইএ এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানি নীতিতে শিথিলতা এনেছে। সর্বোচ্চ এক লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ মূল্যের চালানের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা এখন সরাসরি আমদানিকারকের কাছে শিপিং ডকুমেন্ট পাঠাতে পারবেন। এতে রপ্তানি প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, খরচ কমবে এবং রপ্তানিকারকরা আরও সহজে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা পেতে রপ্তানিকারককে গত তিন অর্থবছরে অন্তত ১০ লাখ মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো বকেয়া আয় থাকা যাবে না। এছাড়া, বাজার বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে। জানা যায়, তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধ, আইটি সেবা, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। এদিকে, রপ্তানি আয় সুরক্ষিত রাখতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রপ্তানি আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত আসে। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের লিখিত সম্মতি নেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, নতুন সরকার বিগত সময়ের বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, আগের সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত থাকলে তা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, রপ্তানি আয় সুরক্ষিত রাখতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রপ্তানি আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত আসে। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের লিখিত সম্মতি নেওয়া হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই সব উদ্যোগের ফলে রপ্তানি খাতের তারল্য সংকট কমবে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে, শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল থাকবে। সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপ রপ্তানি আয় বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনার বিকল্প নেই। নীতি সংস্কার, নগদ সহায়তা, বাজার বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানি আয় বাড়াতে সক্ষম হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সব উদ্যোগের ফলে রপ্তানি খাতের তারল্য সংকট কমবে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে, শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল থাকবে। সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপ রপ্তানি আয় বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনার বিকল্প নেই। নীতি সংস্কার, নগদ সহায়তা, বাজার বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানি আয় বাড়াতে সক্ষম হবে।