ইনিংস ব্যবধানে হারের পরও সিমন্সের আশা, ‘হাতে এখনো সময় আছে’

এফএনএস স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ইনিংস ব্যবধানে হারের পরও সিমন্সের আশা, ‘হাতে এখনো সময় আছে’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান করে ৯২ রানের লিড নেয়। সেই লিড পেরোনোর বদলে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। 

৫ আগস্ট শুরু হওয়া ম্যাচটি শেষ হয় ৭ আগস্ট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একমাত্র বড় সান্ত্বনা ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ২৬৩ পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৭, শাদমান ইসলাম ৩১ রান করলেও আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলাররা অবশ্য প্রথম ইনিংসে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ব্যাটিংয়ে তেজা উইলির ১৩০, জেক ডোরানের ৭৬ এবং কার্টিস প্যাটারসনের ৫৩ রানের ইনিংসে স্বাগতিকরা ৩৫৫ রান করে। ফলে বাংলাদেশের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল।

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো তো দূরের কথা, ব্যাটিংয়ে ভয়াবহ ধস নামে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২২ ওভারেই ৫৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ২২ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৬ রান। হাসান মাহমুদ ২ রানে অপরাজিত থাকেন। এর বাইরে আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।

বাংলাদেশের এই ধসের মূল কারিগর ২২ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। মাত্র ১১ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নেন তিনি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। অফ স্পিনার কোরি রকিচোলি নেন বাকি দুটি উইকেট। 

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৯ রানে ২ উইকেট। অপরাজিত ছিলেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শান্ত কোনো রান না করেই ফেরেন। এরপর সৌম্য সরকার ৫, মুশফিকুর রহিম ২ এবং অমিত হাসান ৪ রান করে আউট হন। মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

বাংলাদেশের শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে মাত্র ৯ রানে। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রানে থামে ইনিংস। ফলে ৯২ রানের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া তো সম্ভব হয়নি, উল্টো এক ইনিংস ও ৩৮ রানের ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হয়।

এই পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বমানের অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশ কীভাবে ব্যাটিং সামলাবে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউডের মতো পেসারদের পাশাপাশি নাথান লায়নও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ১৩ সদস্যের টেস্ট দলে এই তারকারা সবাই আছেন। 

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর মতে, মূল টেস্ট শুরুর আগে ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।

ম্যাচ শেষে সিমন্স বলেন, “এখানের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে মূল ম্যাচে সব ঠিকভাবে করার জন্য আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। আমরা নিজেদের নিয়ে কাজ করব, যেন টেস্ট ম্যাচে নিজেদের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারি।”

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে যে তিনি হতাশ, সেটিও গোপন করেননি বাংলাদেশ কোচ। বিশেষ করে ব্যাটারদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে অসন্তুষ্ট তিনি।

সিমন্স বলেন, “প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ব্যাটিংয়ে নিজেদের হতাশ করেছি। আমরা কীভাবে আউট হয়েছি, আপনারা দেখেছেন, যা একদমই ভালো ছিল না। প্রস্তুতি ম্যাচটি হতাশাজনক ছিল। তবে আমরা সেটা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের পুরো মনোযোগ সামনে থাকা টেস্ট ম্যাচে।”

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় পর টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সফর এটি। এবারের দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। 

প্রথম টেস্টের আগে হাতে থাকা সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটানোই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার ধাক্কা সামলে মূল সিরিজে ভিন্ন চেহারায় ফিরতে হবে শান্তদের।