বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

বাড়ছে ডিজিটাল প্রতারণা

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
বাড়ছে ডিজিটাল প্রতারণা

বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর সুফল যেমন রয়েছে, তেমনি এর সঙ্গে বেড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ। অনলাইন জুয়া, অবৈধ ভিওআইপি এবং ডিজিটাল প্রতারণা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, এ অপরাধে আন্তর্জাতিক চক্রও যুক্ত হয়েছে। দেশের মাটিতে বসে তারা বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে এবং বিদেশে পাচার করছে। ডিজিটাল প্রতারণার সামাজিক ক্ষতিও ভয়াবহ। জুয়ার মাধ্যমে মানুষ দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় নিজের সঞ্চয় হারাচ্ছেন, ঋণে জড়াচ্ছেন, পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছেন। এতে পরিবারে অশান্তি তৈরি হচ্ছে, অনেকেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। তরুণ সমাজের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। মোবাইল ফোনেই এখন জুয়ার আসর বসছে, ফলে এর বিস্তার ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীরা দিন দিন আরও এগিয়ে যাচ্ছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন, একসঙ্গে একাধিক সিম পরিচালনা, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণা- সবই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল। তাই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও দক্ষ হতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষায়িত জনবল তৈরি করতে হবে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এ অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও কর্মসংস্থানের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশি সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা মনে করি, ডিজিটাল প্রতারণা এখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। তাই রাষ্ট্রকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভেঙে দিতে হবে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার নেটওয়ার্ক, বন্ধ করতে হবে অর্থ পাচারের প্রতিটি পথ। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সচেতনতা-এই তিন স্তম্ভই হতে হবে আমাদের প্রতিরক্ষা। তাই রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজকে রক্ষা করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।