তৈরি পোশাক শিল্প

কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু এই শিল্পের বড় দুর্বলতা হলো কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা, বিশেষত ওভেন পোশাক খাতে। গত দশকে স্পিনিং, উইভিং ও ডায়িং খাতে অগ্রগতি হলেও সামপ্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট, ডলার ঘাটতি, ঋণের উচ্চ সুদ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশীয় বস্ত্রশিল্প চাপে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের জন্য নগদ সহায়তা বাড়িয়েছে। এই উদ্যোগ শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। নগদ সহায়তা বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের চাহিদা বাড়বে, উৎপাদন সমপ্রসারণে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, কারণ আমদানিনির্ভরতা কমবে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে এবং স্থানীয় বস্ত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে শুধু নগদ সহায়তা যথেষ্ট নয়। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়। ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে মান উন্নয়ন ও প্রযুক্তি আধুনিকীকরণে জোর দিতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদনের চাহিদা বাড়ছে। তাই স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। বস্ত্রশিল্পকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং পরিবেশগতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, নগদ সহায়তার এই নতুন প্রণোদনা বস্ত্রশিল্পকে টেকসই রপ্তানি বৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য জ্বালানি, ঋণ ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই হবে মূল চাবিকাঠি।