সীমান্তবর্তী এলাকার বেসামরিক যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর ব্যবস্থাপনায় বিরল উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে আয়োজিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত এ প্রশিক্ষণে সীমান্তবর্তী এলাকার ১০ জন যুবক অংশগ্রহণ করেন।
২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে যুবসমাজকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার যুবকদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে নিজেদের ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, এ প্রশিক্ষণ যুবকদের আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান। এছাড়াও প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান, বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মেজর তানিম হাসান খান, বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আল এমরান, বিজিবির কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল (৮ম সেমিস্টার) এর শিক্ষার্থী আরমান হোসেন, অনার্স (২য় বর্ষ) মুরসালিন হোসেনসহ অন্যান্যরা জানান, আমরা সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীগণ এ প্রশিক্ষণে প্রাপ্ত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবো। আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মজীবনকে আরো সহজে সমৃদ্ধ করতে পারবো। আমাদের জন্য বিজিবির এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার।