নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ২০২৫ সালের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা না দেওয়া ২০টি দলের মধ্যে ১৩টি সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর কোনো সাড়া না দেওয়া সাতটি দলও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিসাব জমা দিতে পারবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) ইসির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা ছিল। এ সময়সীমা সামনে রেখে গত জুনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে হিসাব জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিল ইসি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতসহ ৩৮টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। এরপর জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ১৩ আগস্ট হিসাব জমা দেয়। ফলে বর্তমানে ২০টি দলের হিসাব ইসিতে জমা পড়েনি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, হিসাব জমা না দেওয়া ২০টি দলের মধ্যে ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে সাতটি দল সময় বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদন করেনি এবং ইসির কাছে কোনো সাড়াও দেয়নি।
সাড়া না দেওয়া সাতটি দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।
তবে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন না করলেও এই সাতটি দল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে পারবে। এ সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিলে তাদের জন্য আইনগতভাবে কোনো অসুবিধা হবে না বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যেসব দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, তাদের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। আর যারা কোনো সাড়া দেয়নি, তাদের চিঠি দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, কোনো দল পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে নির্বাচন কমিশন সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।