কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আল আমিন সৈকতকে (৪৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে রবিবার রাত ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আল আমিন পৌর শহরের আড়াইবেপারী বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। তিনি সারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভৈরব বাজারে তার মালিকানাধীন ‘রিভারভিউ’ নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের বরাতে তিনি জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রিভারভিউ’ হোটেলে ছিলেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন। বাসার সড়কে ঢুকে কিছুদূর যাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
হামলায় আল আমিনের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তার একটি পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আল আমিনের বাসায় যাওয়ার সড়কটি রাতে বেশ নির্জন থাকে। হামলার সময় চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকা আল আমিনের মাথা ও মুখ এক বেশি রক্তাক্ত ছিল যে প্রথমে তাকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
আল আমিনের স্ত্রী তানিয়া খানম জানান, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন আল আমিন তাকে জানান, তিনি হোটেলে আছেন এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। কারা বা কেন তার স্বামীকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ওসি মো. মাহবুব রহমান বলেন, “টিনপট্টি এলাকার গলির ভেতরে দুর্বৃত্তদের হামলায় আল আমিন সৈকত নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে”।
তিনি আরও বলেন, “কী কারণে এবং কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।