শ্রীমঙ্গলে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ধানের ফলনও ভালো হওয়ায় কৃষক ও কৃষি বিভাগের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশাবাদ। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ মৌসুমে আউশ ধানের উৎপাদন ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৮২ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০১.১ শতাংশ জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। শ্রীমঙ্গল কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, কৃষকদের মধ্যে আউশ ধান চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি, সরকারি প্রণোদনা, কৃষি বিভাগের নিবিড় পরামর্শ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী কার্যক্রমের কারণে এবার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে হেক্টরপ্রতি গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষকরা সময়মতো সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ফলন আরও বাড়তে পারে। এতে আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান ও সুমা পাল জানান, চলতি মৌসুমে আউশ আবাদ সম্প্রসারণে উপজেলার ৮১৯ হেক্টর জমিতে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত প্রদর্শনী মাঠে উন্নত জাতের আউশ ধান ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের সুফল হিসেবে কৃষকদের মধ্যে আউশ চাষের আগ্রহ বেড়েছে এবং আবাদও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আউশ ধানের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার ৬৭৪ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে মাঠে ধান কাটা শুরু হওয়ায় প্রকৃত উৎপাদনের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর অনেক জমিতে আউশ ধানের গাছ বেশ সবল হয়েছে এবং শীষেও ভালো ধান ধরেছে। ফলে উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারলে তারা ভালো দাম পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আউশ ধানের আবাদ সাধারণত বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়। ফলে সময়মতো বৃষ্টিপাত, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং জমিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। এ বছর উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ফলে ফলন সন্তোষজনক হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, শ্রীমঙ্গলে আউশ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা উপজেলার কৃষিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকদের আগ্রহ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আউশের আবাদ ও উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।