গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত রায় অমান্য করে জমি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের রিটন মিয়া বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে একই এলাকার হাইজুর দেওয়ান ও অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ভাটেরচর মৌজাস্থিত আরএস ৯ নম্বর খতিয়ানের ৭২৫ নম্বর দাগের ১২.৫০ শতাংশ জমি নিয়ে বাদল হোসেন দেওয়ান গং ও মমতাজ বেগম- রিটন মিয়া গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উক্ত জমি নিয়ে গজারিয়া সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা ৯৬/২০০৯ দায়ের হলে নিম্ন আদালত বাদী বাদল হোসেন দেওয়ান গংদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে আদালত পূর্বের রায় বহাল রাখে। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ মমতাজ বেগম- রিটন মিয়ার গং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন নং ২০৬৫/২০২৩ দায়ের করেন। গত ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের রায় সম্পূর্ণ বাতিল করে রিটন মিয়াদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এদিকে মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৪২ সালের ২৫ শতাংশ সম্পত্তির এক বণ্টননামা দলিলে খতিয়ান ও দাগ নম্বর ভুল লেখা হয়েছে দাবি করে গজারিয়া সহকারী জজ আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা দায়ের করেন বাদল হোসেন দেওয়ান গং । পরবর্তীতে নিম্ন আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত বাদীদের পক্ষে স্বত্ব ও দখল বিবেচনা করে রায় প্রদান করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিলেরর আদেশ দেন।
অভিযোগে রিটন মিয়া দাবি করেন, উচ্চ আদালতের এই চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি তোয়াক্কা না করে গত ২৬ আগস্ট বিবাদীরা অনধিকার প্রবেশ করে জমিতে বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে রিটন মিয়া ও তার পরিবার বাধা দিলে বিবাদীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। লিটন মিয়ার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারায় দলিল সংশোধনের মামলায় প্রতারণা বা পারস্পরিক ভুল না থাকায় নিম্ন আদালতের আদেশটি আইনগতভাবে টিকতে পারে না।' এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের হাইজুর দেওয়ান বলেন, ' নিম্ন আদালতের রায়ে আমরা এই জমির মালিক হই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সম্পত্তিতে ভোগদখলে রয়েছি। এখন উচ্চ আদালত আমাদের অনুকূলে আসা নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করলেও তারা ১২.৫০ শতাংশ জমি পাবেনা না। কিন্তু তারা অবৈধভাবে ১২.৫০ শতাংশ সম্পত্তি দখল করতে চাইছে।' এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।