সৈয়দপুরে গুরুদণ্ডের অভাবে বাড়ছে মাদকের ভয়াবহতা

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
সৈয়দপুরে গুরুদণ্ডের অভাবে বাড়ছে মাদকের ভয়াবহতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদকের বিস্তার। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের আশপাশে প্রকাশ্যে-গোপনে চলছে মাদক কেনাবেচা। এতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে মাদকাসক্তির কারণে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের কারবার রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যেই এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করছে। হচ্ছে মামলা, কারাদণ্ড ও জরিমানাও। তারপরও অভিযানের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই অনেক এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ীরা। সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া এবং আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অনেকের দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসার কারণে এ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ী তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকের সহজলভ্যতার কারণে তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা এবং রাতের বেলায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা আতঙ্কে থাকেন। অনেক পরিবার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধ বাড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকসহ কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে। সচেতন মানুষের মতে, শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার দিয়ে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, মাদকের উৎস ও সরবরাহ বন্ধ করা, নিয়মিত নজরদারি এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা জরুরি। তাদের দাবি, সৈয়দপুরকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মাদকের ভয়াবহতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে