নীলফামারীর সৈয়দপুরে কতিপয় অসাধু মুরগি ব্যবসায়ীর কারণে মুরগির বর্জ্য বা নাড়িভুঁড়ি মানুষের খাবারের তালিকায় ঢ়ুকে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন ভ্যানযোগে এসব মুরগির নাড়িভুঁড়ি সৈয়দপুর থেকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগি জবাই ও পরিষ্কারের পর অব্যবহারযোগ্য বর্জ্য যথাযথভাবে মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করার কথা। কিন্তু সৈয়দপুর শহরের কতিপয় মুরগি ব্যবসায়ী এসব বর্জ্য ফেলে না দিয়ে প্রায় ১২ টাকা কেজি দরে দূরবর্তী এলাকার কিছু ব্যক্তির কাছে বিক্রি করছেন। এদিকে যারা ভ্যানযোগে এসব নাড়িভুঁড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, এগুলো পুকুরের মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সব নাড়িভুঁড়ি মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে না। এর একটি অংশ গরম পানিতে পরিষ্কার করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পুনরায় বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্রেতার মধ্যে কিছু হোটেল ব্যবসায়ীও রয়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মুরগির বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়ার কথা থাকা এসব নাড়িভুঁড়ি যদি অপরিষ্কার ও অনিরাপদ অবস্থায় সংগ্রহ করে খাবার হিসেবে বাজারজাত করা হয়ে থাকে, তাহলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব উপকরণ দিয়ে মুখরোচক বিভিন্ন খাবার তৈরি করে সাধারণ মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে, মুরগির নাড়িভুঁড়ি সংগ্রহ, পরিবহন, পরিষ্কার ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোথা থেকে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, কারা কিনছেন এবং কোথায় নিয়ে গিয়ে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, সৈয়দপুর শহরে মুরগির বর্জ্য নিয়ে এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযান পরিচালনা করুক। একই সঙ্গে খাদ্য হিসেবে এসব বর্জ্য ব্যবহার বা বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গোপন সংবাদ পেয়ে ২৫ আগস্ট সৈয়দপুর মুরগী হাটিতে গেলে দেখা যায়,নাড়িভুঁড়ি ভর্তি করা হচ্ছে কয়েকটি ড্রামে। তারপর ড্রামগুলো তোলা হচ্ছে ভ্যানে। এরা এসেছেন দিনাজপুর থেকে। প্রথমে সাংবাদিকদের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে তারা বেশ কিছু সময়ের জন্য স্থান ত্যাগ করেন। অবশেষে দুইজন এসে বলেন,শুধু আমরাই এগুলো নিচ্ছি না। চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দর থেকে আরো কয়েকজন নিয়ে যাচ্ছে তাদের আটকান। এ অবস্থায় মুরগী ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুইজন এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। বলে,এরা যদি এগুলো মানুষকে খাওয়ায় তাহলে আমরা তাদের বিচার করবো।
নাড়িভুঁড়ি বিক্রি করা নিষেধ কেন এগুলো আপনারা বিক্রি করছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তারা পাশ কেটে যান। অনেকের দাবি, সৈয়দপুর মুরগী হাটিতে অভিযান চালানো হোক। যে সকল ব্যবসায়ী নাড়িভুঁড়ি বিক্রির সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেন তারা।