ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ব্যবসায়ি মো. জুনাইদ মিয়ার বিরূদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়িবৃন্দ ও গ্রামবাসী। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার অরূয়াইল বাজারে পাকশিমুল ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. বাশার মিয়ার সভাপতিত্বে দেড়/দুই শতাধিক লোকের অংশ গ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ুইছাড়া গ্রামের মো. কামাল পারভেজের ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন (২৫) ও একই গ্রামের কিবরূ মিয়ার নাবালিকা মেয়ে অরূয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী নিসা আক্তারকে উত্যক্ত, প্রেম, বিয়ে ও ডিভোর্সেকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমার সূত্রপাত হয়েছে। আর এ ঘটনায় বলির পাঠা হয়েছেন ব্যবসায়ি জুনাইদ।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী বক্তারা ও মামলার এজহার সূত্র জানায়, স্কুল ছাত্রী নিসাকে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করতো আ’লীগ নেতার ছেলে রিফাত। ভালবাসার প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দেখাত নিয়মিত। ২০২৫ সালের ১৪ মে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কৌশলে নিসাকে নিয়ে পালিয়ে যায় রিফাত গংরা। ঢাকার মিরপুরে নিসাকে নিয়ে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বসবাস করতে থাকে রিফাত। নিসার বয়স তখন ১৬ বছর ৭ মাস ৬দিন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিফাত নাবালিকা মেয়ে নিসার সাথে শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হয়। নিসার পরিবারের লোকজন কোথাও খুঁজে পায়নি তাদের। ওই বছরের ১২ ই জুন তাদেরকে মিরপুর থেকে উদ্ধার করেন। পরে গ্রাম্য সালিস সভায় প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর রিফাত নিসাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিবে মর্মে অঙ্গিকার আবদ্ধ হন। এর কিছুদিন পরই পর পাল্টে যায় রিফাত ও তার পরিবার। নিসাকে বিবাহ না করার কথা জানিয়ে নানা ধরণের হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। নিসার পিতা কিবরূ মিয়া বাদী হয়ে গত ১৪ ই আগষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৫ নম্বর স্বাক্ষী করেন ভূঁইশ্বর গ্রামের প্রয়াত আতিকুর রহমানের ছেলে জুনাইদকে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে রিফাতের পিতা মো. কামাল পারভেজ তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও চাঁদা দাবীর অভিযোগে জুনাইদকে প্রধান আসামী করে গত ১৮ই আগষ্ট আদালতে একটি মামলা করেন। তারা বলেন, জুনাইদের বিরূদ্ধে করা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি দ্রূত প্রত্যাহার করতে হবে। মো. জুনাইদ মিয়া বলেন, নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে গোপনে পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় থাকা ও পরবর্তীতে সালিস সভায় মেয়েকে বিয়ে করার অঙ্গিকার করে বিয়ে করার বিষয়টি সত্য। কিন্তু কিছুদিন পরই অজানা কারণে আবার ডিভোর্স! তাই আমি কিবরূ মিয়ার মামলায় স্বাক্ষী হয়েছি। এ জন্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগে আমাকে ওই মামলায় আসামী করেছেন কামাল পারভেজ। এমন বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে আমি মুক্তি চাই। কামাল পারভেজ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিসার সাথে রিফাতের বিয়ে ও ডিভোর্স আমার অজান্তে হয়েছে। তবে সববিছুই আইনগত ভাবেই হয়েছে। ফাঁকে জুনাইদ প্রবেশ করে আমার উপর অত্যাচার নির্যাতন করছে। আমার পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেছে। আমি জীবনে কোন দিনও রাজনীতি করিনি। অথচ মিথ্যা ট্যাগ দিচ্ছে। ২৭ বছর ধরে অরূয়াইল বাজারে ব্যবসা ও বসবাস করছি। সে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর লুটপাট করে তছনছ করেছে। মোটা অংকের টাকা দাবী করেছে। আমি এখন বাড়িঘর ছাড়া হয়ে খুবই আতঙ্কে আছি।