অপরিচিত ফোন কল থেকে প্রেম, না দেখেই বিয়ে, চঞ্চল-শান্তার ২০ বছরের সংসার

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
অপরিচিত ফোন কল থেকে প্রেম, না দেখেই বিয়ে, চঞ্চল-শান্তার ২০ বছরের সংসার
ছবি: সংগ্রহীত

অপরিচিত একটি ফোন কল থেকে শুরু। এরপর প্রায় এক মাসের ফোনালাপ। সামনাসামনি দেখা হওয়ার আগেই বিয়ের সিদ্ধান্ত। এভাবেই শুরু হয়েছিল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও চিকিৎসক শান্তা চৌধুরীর সম্পর্ক। ২৭ আগস্ট তাঁদের ২০তম বিবাহবার্ষিকী পূর্ণ হয়েছে। বিয়ের ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২৮ আগস্ট ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সেই ভালোবাসার শুরুর গল্প তুলে ধরেছেন চঞ্চল।

বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে এক তরুণী ফোন করে চঞ্চলকে বলেছিলেন, তাঁর অভিনয় ভালো লাগে। ওই ফোনালাপই ধীরে ধীরে সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়। চঞ্চলের মনে হয়েছিল, তরুণীর ভালো লাগা হয়তো শুধু তাঁর অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁকেও পছন্দ করেন তিনি।

চঞ্চলের সঙ্গে শান্তার পরিচয় ২০০৫ সালে। তখন গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন তিনি। চঞ্চলের বড় ভাই পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। শান্তা ছিলেন তাঁর ভাইয়ের ছাত্রী। সে সময় চঞ্চলের বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাবাকে দেখতে হাসপাতালে গেলে সেখানেই প্রথম চঞ্চলকে দেখেন শান্তা। পরে কোনোভাবে তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেন।

এরপর মোবাইল ফোনে তাঁদের নিয়মিত কথা হতে থাকে। প্রায় এক মাস কথা বলার পর একদিন চঞ্চলই বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামনাসামনি দেখা না হলেও ফোনের কথাবার্তায় তৈরি হওয়া সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে দুজনই সম্মত হন।

সেই সময় বিয়ের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকেও চাপ ছিল বলে জানিয়েছেন চঞ্চল। বাবা-মা ও ভাই-বোনের কাছে তিনি একরকম ‘পুত্রদায়গ্রস্ত’ হয়ে উঠেছিলেন। তাই তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্তে পরিবারেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে শান্তার পরিবারের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। পরিবারের কয়েকজন এই বিয়ের ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন, কেউ ছিলেন নিমরাজি। কারণ শান্তা ছিলেন চিকিৎসক এবং তাঁর মা-বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়ের বিয়ে কোনো চিকিৎসকের সঙ্গে হোক। অন্যদিকে চঞ্চল তখন অভিনয়ে পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন।

শেষ পর্যন্ত পরিবারের আপত্তি-অনাপত্তির হিসাব খুব বেশি না কষেই নিজেদের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেন তাঁরা। বিয়েটি হয় দুই দফায়। প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রে বিয়ে, পরে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দ্বিতীয় দফায় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পরও শান্তার পরিবারের কাছে সহজে জায়গা করে নিতে পারেননি চঞ্চল। শুরুতে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। পরে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। শান্তার বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর মা জামাই হিসেবে চঞ্চলকে মেনে নেন।

দেখতে দেখতে সেই সংসার পেরিয়ে গেছে দুই দশক। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন নিয়ে নিজের পোস্টে চঞ্চল লিখেছেন, ‘কখনও ভাবিনি আমার মতো একজন বাউন্ডেলের সঙ্গে ভদ্রমহিলা এতদিন সংসার করবে।’

চঞ্চল ও শান্তার সংসারে একমাত্র সন্তান শুদ্ধ। দুই দশকের পথচলার কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল তাঁদের সংসার টিকে থাকার প্রধান কারণ হিসেবে ছেলে শুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন।

নিজের জন্য খুব বেশি প্রত্যাশা নেই বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেতা। তবে স্ত্রী ও সন্তানের জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। পোস্টের শেষ দিকে চঞ্চল লিখেছেন, ‘আমার জন্য কম প্রার্থনা করলেও, বউ-ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’ একই সঙ্গে জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে তাঁরা ভালো আছেন। নিজের ঘর ও দেশের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়েও নানা কাজ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন চঞ্চল। তাঁকে সবশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে কোরবানি ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায়। মৃণাল সেনের জীবন ও কর্ম অবলম্বনে নির্মিত ‘পদাতিক’ সিনেমাতেও কিংবদন্তি নির্মাতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২৮ আগস্ট সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে মুক্তির কথা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে