কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর শহরের ভাগলপুরে অবস্থিত স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ভাগলপুরের রশি মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, অভিভাবক-অভিভাবিকা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মরহুম শিল্পপতি আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে ভাগলপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও বর্তমানে কিছু ব্যক্তির অনিয়ম ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক মাস আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কোনো বৈধ কারণ ছাড়া গভর্নিং বডি ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মস্ত মিয়া, সাবেক অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তার, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান, বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম মিয়া, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক চন্দা রানী দেবনাথ এবং অফিস সহকারী আশিষ দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন ও নির্মাণ ব্যয় বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা দেখানো হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ হয়নি। এছাড়া প্রতিবছর পরীক্ষা ফি বাবদ আদায়কৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা শিক্ষকদের ভাতা হিসেবে না দিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১৩ বছরে সার্টিফিকেট প্রদান বাবদ আদায়কৃত প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক কল্যাণ ও প্রণোদনা তহবিলের অর্থ, টাই-ব্যাচ-সোল্ডার ও ডায়েরি বিক্রির অর্থ, নির্ধারিত সময়ের পর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ এবং নাইট কোচিংয়ের আয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ, জেনারেটর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের ভাড়া দেওয়া সম্পত্তি থেকে আদায়কৃত অর্থ যথাযথভাবে ফান্ডে জমা না দেওয়া এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করার অভিযোগও করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আর্থিক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুজ্জামান মনির প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দ্রুত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের সব আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তিনি। এ সময় তিনি নতুন এডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মরহুম আলহাজ্ব জহুরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বার্থে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।