যুদ্ধাপরাধ: আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কি না, আদেশ ৭ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
যুদ্ধাপরাধ: আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কি না, আদেশ ৭ সেপ্টেম্বর
ছবি: সংগ্রহীত

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ৪ হাজার ৯৭০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর করা আপিল আদালতে চলবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি।

আবুল কালাম আযাদ আপিল করতে দেরি হওয়ায় বিলম্ব মার্জনার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখারও আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় নির্ধারিত সময়ে তিনি আপিল করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ সময় পর তাঁর করা আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই এখন আপিল বিভাগে শুনানি হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর আবুল কালাম আযাদের মামলার রায়ই ছিল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও প্রথম রায় ছিল।

ওই রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি প্রমাণিত হওয়ায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবুল কালাম আযাদ দেশে ফিরে আসেন। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে।

সাজা স্থগিতের সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্ত দেওয়া হয়। সেই শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ।

আত্মসমর্পণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেয়। পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন তিনি।

এখন আপিল বিভাগ ৭ সেপ্টেম্বর আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন, দীর্ঘ সময় পর করা আবুল কালাম আযাদের আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না এবং সেটি শুনানির জন্য চলতে পারবে কি না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে