বন্যা নিয়ন্ত্রণ

স্থায়ী উদ্যোগ জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
স্থায়ী উদ্যোগ জরুরি

প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলে অতিরিক্ত জোয়ার ও নদীভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় মানুষের প্রধান সংকট এখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় খাদ্য উৎপাদনেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা অপরিহার্য। শুধু খাদ্য নয়, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিতে হবে, যাতে তারা পুনরায় চাষাবাদে ফিরতে পারেন। আমাদের মতে, বন্যা মোকাবিলায় শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী উদ্যোগ নিতে হবে। নদীর তীর রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে হবে। নদীভাঙন রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে, যাতে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরে যায়। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে, যাতে মানুষ আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়। স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পান। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া প্রতি বছর একই দুর্যোগ পুনরাবৃত্তি হবে, আর মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।