মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩১ এএম
মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

দেশে ১২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি প্রজাতি মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। এসব রোগ হচ্ছে—ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, জিকা ভাইরাস ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস। এই ছয় রোগের মধ্যে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্থতা স্পষ্ট। সারা দেশে মশার উপদ্রব বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার। মশা নিধনে বছর বছর কোটি টাকার কীটনাশক ক্রয় করা হলেও বলা হচ্ছে—এসবের বেশির ভাগই নকল, নয়তো কাজ করছে না। নানা উদ্যোগের পরও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না মশা, এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। চলতি বছরের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ হাজার ২৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের। মশা নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ঘাটতি, রোগের জিনগত পরিবর্তন নিয়ে গবেষণার অভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোগী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সব মিলেই মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। মশার পেছনে পাঁচ বছরে খরচ ৭৩৮ কোটি টাকা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের গত পাঁচ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মশক নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় ৫৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। একই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় ১৯৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। দুই সিটি মিলিয়ে এই পাঁচ বছরে মশক নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ৭৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। মশাবাহিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু ডেঙ্গুতে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে দেশে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় পাঁচ হাজার ৫৫১ জন। এরপর আর কোনো বছরই দেশ ডেঙ্গুমুক্ত থাকেনি। গত এক দশকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ। এ সময় মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ২৩৬ জনের। এর মধ্যে শুধু গত তিন বছরে মারা গেছে দুই হাজার ৬৯৩ জন, মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৭ শতাংশ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চাপ বাড়ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও এর ফলাফল যাচাইয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। রয়েছে জনবলসংকটও। ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে শুধু ঢাকা উত্তরে একজন কীটতত্ত্ববিদ আছেন। এ ছাড়া জবাবদিহির অভাবও লক্ষণীয়। সারা দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় গবেষণার পাশাপাশি লোকবল বাড়াতে হবে। প্রশাসনে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে