নামছে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

পানির সংকটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি

এফএনএস
| আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
পানির সংকটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্যোগের ঝুঁকি

রাজধানী ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং পানির চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা যায়, ঢাকায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ মিটার করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। ২০০১ সালে রাজধানীর পানির স্তর যেখানে প্রায় ৩৯ দশমিক ৬ মিটার গভীরে ছিল, ২০২৪ সালে তা ১০৯ মিটারে গিয়ে ঠেকেছে। একই সময়ে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ এখনো ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আসছে। অর্থাৎ যে হারে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, সে তুলনায় ভূগর্ভে পানি পুনর্ভরণের হচ্ছে না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের গরমে আদাবর, শেখেরটেক, জুরাইন, মুরাদপুর, নন্দীপাড়া, বাড্ডা ও বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় গভীর নলকূপ থেকেও আগের তুলনায় কম পানি পাওয়া যাচ্ছে। সমস্যার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন শুধু ভবিষ্যতে পানির সংকট তৈরি করবে না তা নয় এর সঙ্গে জড়িত ভূমির স্থিতিশীলতা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দীর্ঘদিন ধরে কমতে থাকলে মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরের ওপর চাপের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে এবং ভূমি বসে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা রাজধানীর জন্য বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। রাজউক ও বুয়েটের সমীক্ষায় রাজউকের আওতাধীন এলাকার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের নভেম্বরের ভূমিকম্প এবং চলতি বছরের জুনে ঢাকার কাছাকাছি উৎপত্তিস্থলের ভূমিকম্পগুলোও রাজধানীর ভূমিকম্পঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুর্বল ভবন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঘনবসতির সঙ্গে যদি ভূমির স্থিতিশীলতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও যুক্ত হয়, তাহলে বড় ভূমিকম্পের সময় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি আরও গুরুতর হতে পারে। তাই এ পরিস্থিতিতে প্রথমেই ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নদী ও জলাশয়ের পানি দূষণমুক্ত রেখে তা পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজধানীর খাল, জলাধার ও নিম্নাঞ্চল দখল ও ভরাটমুক্ত রাখতে হবে যাতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি মাটিতে পানি প্রবেশের সুযোগও তৈরি হয়। একই সঙ্গে কোন এলাকায় কী হারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমছে, কোথায় ভূমি বসে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং কোন এলাকায় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ক্ষতি বেশি হতে পারে, এসব বিষয়ও লক্ষ্য রাখতে হবে। তাই রাজধানীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় শুধু শক্ত ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে; মাটির নিচের পানির ভারসাম্য রক্ষার ওপরও সমানভাবে নজর দিতে হবে।