প্রধান শিক্ষককে নিয়ে অপপ্রচার, প্রমাণ পাইনি তদন্ত কমিটি

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
প্রধান শিক্ষককে নিয়ে অপপ্রচার, প্রমাণ পাইনি তদন্ত কমিটি

খুলনার পাইকগাছায় খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিকের  অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াটি বলে মন্তব্য করেছেন খোদ প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ে কর্মচারি নিয়োগে বঞ্চিত প্রকাশ সরকারের করা অভিযোগ তদন্তে প্রমান না মেলায় এবার সে প্রতিশোধ প্রবন হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক বলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন প্রকাশের সরবরাহকরা পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় একটি ফটেকপি'তে আমার নামের উপর " উবষবঃবফ ধভঃবৎ ধফলঁফরপধঃরড়হ নু লঁফরপরধষ ড়ভভরপবৎং" এই মর্মে সিল মোহর দেয়া আছে,যা ভূয়া। আমি বাংলাদেশী নাগরিক। সম্প্রতি এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এলাকার মানুষ দু'পক্ষের বাড়াবাড়ি বলে পক্ষে-বিপক্ষে দু'ধরনের মতামত ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, উপজেলার লস্করের খড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইতোপুর্বে পরিছন্নতা,নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে কর্মচারি নিয়োগে দুর্নীতি ও প্রনোদনা'র ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক দাবি করে খড়িয়ার প্রকাশ চন্দ্র সরকার প্রধান শিক্ষকের নামে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সমরেশ সরকার ও প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এসব  অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তারিখে খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছায়েদুর রহমান ও পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী শেখ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো, হাসিবুর রহমার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পৃথক-পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানায়ায় মূলত অভিযোগকারি প্রকাশ চন্দ্র সরকার ও প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার একই বংশের মানুষ। এ বিদ্যালয়ে প্রকাশ চন্দ্র ও তার স্ত্রী অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ প্রত্যাশি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষ কৌশলে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়নি। পরবর্তীতে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ মতে পদের নাম করন পরিবর্তন করে অফিস সহকারি কাম হিসাব সহকারি করা হয়। এ পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করে বাণিজ্য বিভাগে নুন্যতম  উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বিভাগে উত্তীর্ন হওয়ার শর্ত থাকায় প্রকাশ দম্পতি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের অযোগ্য হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দিলে প্রকাশ সরকারের স্ত্রী বাদি হয়ে পাইকগাছার সহকারি জজ আদালতে ৩৬৪/২৩ মামলা রুজু করলে বিজ্ঞা বিচারক মামলাটি খারিজ করেন। পরে উচ্চ আদালতে ১৮৪/২৩ নং আপিল মামলা করলেও সেটিও খারিজ হয়। এ নিয়োগ ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ চন্দ্র সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৃথক পৃথক ভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে নিয়োগ বিধি মেনেই কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রনোদনা অনুদানের ৫ লাখ টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করা হয়ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক মর্মে অভিযোগের সত্যতা প্রমানের বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় তা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করা গেল না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে