মেক্সিকো সিটির একটি অভিজাত এলাকার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জনপ্রিয় ইন্ডি রক ব্যান্ড কামিলো সেপ্টিমোর কিবোর্ডবাদক জোনাতন মেলেন্দে, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, তিন বছরের কন্যা ও এক পরিচর্যাকারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় একটি কুকুরকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ছয় বছর বয়সী একটি ছেলেশিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত মিউজিশিয়ান জোনাতন মেলেন্দের বয়স ছিল ৩৮ বছর। তাঁর স্ত্রী আনা পলের বয়স ৩৫ বছর এবং তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
নিহত পরিচর্যাকারীর নাম আলেইদা রোমেরো ভিকতোরিও। ২১ বছর বয়সী এই তরুণী ওই দম্পতির বাসায় পরিচর্যাকারী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আলেইদা ছিলেন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। তাঁর খালা লোরেনা ভিকতোরিও কাবরেরা বলেন, “সে খুব পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মেয়ে ছিল। তার সঙ্গে এমনটা হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুজনের হাত বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। তিন বছরের শিশুটির মাথায় গুলির আঘাত ছিল। অপর একজনকে পেছন দিক থেকে গুলি করা হয়েছে। মৃত কুকুরটির পা-ও বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ঘটনার পর মেলেন্দের ব্যান্ড কামিলো সেপ্টিমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, “আমরা আজ তার জীবন, তার সংগীত, তার আলো এবং যারা তাকে চিনতেন ও তার সঙ্গে পথ চলতে পেরেছি, তাদের সঙ্গে সে যা ভাগ করে নিয়েছিল, সেসবকে শ্রদ্ধা ও উদযাপন করছি।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেক্সিকো স্টেটের প্রসিকিউটর কার্যালয়, ফেডারেল সেক্রেটারিয়েট অব সিকিউরিটি অ্যান্ড সিটিজেন প্রোটেকশন এবং মেক্সিকো সিটি সেক্রেটারিয়েট অব সিটিজেন সিকিউরিটির যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, মেলেন্দের পরিচিত দিয়েগো সেবাস্তিয়ানকে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেরার্ডো নামে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।